টপিক · বিষয়

বাংলা

বর্ণ কীভাবে জোড়া লেগে যুক্তবর্ণ হয়, আর স্বরবর্ণ কীভাবে কার-চিহ্ন হয়ে যায়।

সব বিষয়

শ্রেণি অনুযায়ী

বিষয়

বাংলা

বর্ণ কীভাবে জোড়া লেগে যুক্তবর্ণ হয়, আর স্বরবর্ণ কীভাবে কার-চিহ্ন হয়ে যায়।

  1. যুক্তবর্ণদুটি বর্ণ মিলে একটি
  2. কারস্বরবর্ণের ছোট রূপ

বাংলা · ষষ্ঠ শ্রেণি · টপিক ১

যুক্তবর্ণ: দুটি বর্ণ মিলে একটি

দুটি ব্যঞ্জনবর্ণের মাঝে কোনো স্বরধ্বনি না থাকলে তারা জুড়ে গিয়ে একটি নতুন রূপ নেয়। একে বলে যুক্তবর্ণ। যেমন "পক্ষ" শব্দে ক আর ষ-এর মাঝে কোনো স্বর নেই, তাই দুটি মিলে হয় ক্ষ।

ক আর ষ পাশাপাশি থেকে কাছে এসে মিলে যায় এবং যুক্তবর্ণ ক্ষ তৈরি হয়। ক + ষ ক্ষ ক + ্ + ষ = ক্ষ
ক আর ষ কাছে এসে মিলে যায়: তৈরি হয় ক্ষ, যেমন "পক্ষ", "শিক্ষা"।

হসন্ত দিয়ে জোড়া

প্রথম বর্ণের নিচে হসন্ত (্) মানে তার পরে কোনো স্বর নেই। তাই ক + ্ + ষ লিখলে হয় ক্ষ। কম্পিউটার বা মোবাইলে বাংলা টাইপ করার সময়ও ঠিক এভাবেই যুক্তবর্ণ তৈরি হয়।

যেগুলোর চেহারা বদলে যায়

কিছু যুক্তবর্ণ দেখে মূল বর্ণগুলো চেনা কঠিন। এগুলো আলাদা করে মনে রাখো:

যুক্তবর্ণভাঙলেউদাহরণ
ক্ষক + ষপক্ষ, শিক্ষা
জ্ঞজ + ঞজ্ঞান, বিজ্ঞান
ঞ্চঞ + চপঞ্চাশ, অঞ্চল
হ্মহ + মব্রহ্মপুত্র
ষ্ণষ + ণকৃষ্ণ, উষ্ণ
ঙ্কঙ + কঅঙ্ক, শঙ্কা

দ্বিতীয় বর্ণটি ব, ম, য, র বা ল হলে সেটি প্রায়ই ছোট একটি চিহ্ন বা ফলা হয়ে যায়: স + ব = স্ব (স্বাধীন), ক + য = ক্য (বাক্য), প + র = প্র (প্রথম), স + ম = স্ম (স্মরণ)।

নিজে করো

"বিজ্ঞান", "উষ্ণ" আর "অঙ্ক" শব্দের যুক্তবর্ণগুলো ভেঙে লেখো।

উত্তর দেখো

বিজ্ঞান: জ্ঞ = জ + ঞ। উষ্ণ: ষ্ণ = ষ + ণ। অঙ্ক: ঙ্ক = ঙ + ক।

এক কথায়

মাঝে স্বর না থাকলে দুটি ব্যঞ্জনবর্ণ জুড়ে যুক্তবর্ণ হয়; ভাঙলে আবার মূল বর্ণগুলো পাওয়া যায়।

বাংলা · ষষ্ঠ শ্রেণি · টপিক ২

কার: স্বরবর্ণের ছোট রূপ

বাংলায় স্বরবর্ণ ১১টি: অ আ ই ঈ উ ঊ ঋ এ ঐ ও ঔ। স্বরবর্ণ কোনো ব্যঞ্জনবর্ণের সঙ্গে যুক্ত হলে পুরো বর্ণটি না লিখে তার একটি ছোট চিহ্ন লেখা হয়। এই চিহ্নের নাম কার। যেমন ক + আ = কা; এখানে া হলো আ-কার।

ক বর্ণের সঙ্গে একে একে প্রতিটি কার যুক্ত হয়: ক, কা, কি, কী, কু, কূ, কৃ, কে, কৈ, কো, কৌ। ক ক + অ (কোনো চিহ্ন নেই) কা ক + আ-কার (া) কি ক + ই-কার (ি) কী ক + ঈ-কার (ী) কু ক + উ-কার (ু) কূ ক + ঊ-কার (ূ) কৃ ক + ঋ-কার (ৃ) কে ক + এ-কার (ে) কৈ ক + ঐ-কার (ৈ) কো ক + ও-কার (ো) কৌ ক + ঔ-কার (ৌ)
ক-এর সঙ্গে একে একে সব কার: ক, কা, কি, কী, কু, কূ, কৃ, কে, কৈ, কো, কৌ।

অ-এর কোনো কার নেই

ক লিখলেই তার মধ্যে অ ধ্বনি থাকে (ক = ক্ + অ)। তাই অ-এর আলাদা চিহ্ন লাগে না, আর কার আছে ১০টি।

কোন কার কোথায় বসে

স্বরবর্ণকারক-এর সঙ্গেউদাহরণ
আাকাকাক
ইিকিকিছু
ঈীকীনদী
উুকুকুকুর
ঊূকূকূল
ঋৃকৃকৃষক
এেকেকেন
ঐৈকৈবৈশাখ
ওোকোকোকিল
ঔৌকৌকৌতুক

ি, ে আর ৈ বর্ণের আগে লেখা হয়, কিন্তু উচ্চারণ হয় বর্ণের পরে। ো আর ৌ বর্ণের দুই পাশে বসে। ু, ূ আর ৃ বসে বর্ণের নিচে।

নিজে করো

"কৃষক", "বৈশাখ" আর "কৌতুক" শব্দে কোন কোন কার আছে?

উত্তর দেখো

কৃষক: ঋ-কার (কৃ)। বৈশাখ: ঐ-কার (বৈ) আর আ-কার (শা)। কৌতুক: ঔ-কার (কৌ) আর উ-কার (তু)।

এক কথায়

স্বরবর্ণ ব্যঞ্জনবর্ণের সঙ্গে বসলে ছোট চিহ্ন বা কার হয়ে যায়; অ ছাড়া প্রতিটি স্বরবর্ণের একটি কার আছে।