দুটি ব্যঞ্জনবর্ণের মাঝে কোনো স্বরধ্বনি না থাকলে তারা জুড়ে গিয়ে একটি নতুন রূপ নেয়। একে বলে যুক্তবর্ণ। যেমন "পক্ষ" শব্দে ক আর ষ-এর মাঝে কোনো স্বর নেই, তাই দুটি মিলে হয় ক্ষ।
ক আর ষ কাছে এসে মিলে যায়: তৈরি হয় ক্ষ, যেমন "পক্ষ", "শিক্ষা"।
হসন্ত দিয়ে জোড়া
প্রথম বর্ণের নিচে হসন্ত (্) মানে তার পরে কোনো স্বর নেই। তাই ক + ্ + ষ লিখলে হয় ক্ষ। কম্পিউটার বা মোবাইলে বাংলা টাইপ করার সময়ও ঠিক এভাবেই যুক্তবর্ণ তৈরি হয়।
যেগুলোর চেহারা বদলে যায়
কিছু যুক্তবর্ণ দেখে মূল বর্ণগুলো চেনা কঠিন। এগুলো আলাদা করে মনে রাখো:
যুক্তবর্ণ
ভাঙলে
উদাহরণ
ক্ষ
ক + ষ
পক্ষ, শিক্ষা
জ্ঞ
জ + ঞ
জ্ঞান, বিজ্ঞান
ঞ্চ
ঞ + চ
পঞ্চাশ, অঞ্চল
হ্ম
হ + ম
ব্রহ্মপুত্র
ষ্ণ
ষ + ণ
কৃষ্ণ, উষ্ণ
ঙ্ক
ঙ + ক
অঙ্ক, শঙ্কা
দ্বিতীয় বর্ণটি ব, ম, য, র বা ল হলে সেটি প্রায়ই ছোট একটি চিহ্ন বা ফলা হয়ে যায়: স + ব = স্ব (স্বাধীন), ক + য = ক্য (বাক্য), প + র = প্র (প্রথম), স + ম = স্ম (স্মরণ)।
নিজে করো
"বিজ্ঞান", "উষ্ণ" আর "অঙ্ক" শব্দের যুক্তবর্ণগুলো ভেঙে লেখো।
মাঝে স্বর না থাকলে দুটি ব্যঞ্জনবর্ণ জুড়ে যুক্তবর্ণ হয়; ভাঙলে আবার মূল বর্ণগুলো পাওয়া যায়।
বাংলা · ষষ্ঠ শ্রেণি · টপিক ২
কার: স্বরবর্ণের ছোট রূপ
বাংলায় স্বরবর্ণ ১১টি: অ আ ই ঈ উ ঊ ঋ এ ঐ ও ঔ। স্বরবর্ণ কোনো ব্যঞ্জনবর্ণের সঙ্গে যুক্ত হলে পুরো বর্ণটি না লিখে তার একটি ছোট চিহ্ন লেখা হয়। এই চিহ্নের নাম কার। যেমন ক + আ = কা; এখানে া হলো আ-কার।
ক-এর সঙ্গে একে একে সব কার: ক, কা, কি, কী, কু, কূ, কৃ, কে, কৈ, কো, কৌ।
অ-এর কোনো কার নেই
ক লিখলেই তার মধ্যে অ ধ্বনি থাকে (ক = ক্ + অ)। তাই অ-এর আলাদা চিহ্ন লাগে না, আর কার আছে ১০টি।
কোন কার কোথায় বসে
স্বরবর্ণ
কার
ক-এর সঙ্গে
উদাহরণ
আ
া
কা
কাক
ই
ি
কি
কিছু
ঈ
ী
কী
নদী
উ
ু
কু
কুকুর
ঊ
ূ
কূ
কূল
ঋ
ৃ
কৃ
কৃষক
এ
ে
কে
কেন
ঐ
ৈ
কৈ
বৈশাখ
ও
ো
কো
কোকিল
ঔ
ৌ
কৌ
কৌতুক
ি, ে আর ৈ বর্ণের আগে লেখা হয়, কিন্তু উচ্চারণ হয় বর্ণের পরে। ো আর ৌ বর্ণের দুই পাশে বসে। ু, ূ আর ৃ বসে বর্ণের নিচে।
নিজে করো
"কৃষক", "বৈশাখ" আর "কৌতুক" শব্দে কোন কোন কার আছে?
উত্তর দেখো
কৃষক: ঋ-কার (কৃ)। বৈশাখ: ঐ-কার (বৈ) আর আ-কার (শা)। কৌতুক: ঔ-কার (কৌ) আর উ-কার (তু)।
এক কথায়
স্বরবর্ণ ব্যঞ্জনবর্ণের সঙ্গে বসলে ছোট চিহ্ন বা কার হয়ে যায়; অ ছাড়া প্রতিটি স্বরবর্ণের একটি কার আছে।