টপিক · বিষয়

গণিত

শুরুতে ভিত্তি হিসেবে ভগ্নাংশ। তারপর নবম–দশম শ্রেণির সাধারণ গণিত বইয়ের অধ্যায়ের ক্রমে অ্যানিমেশন; ব্যবহারিক জ্যামিতি ও বীজগাণিতিক অনুপাত ছাড়া সব অধ্যায়ের জন্যই আছে। প্রতিটি টপিকের নিচে বইয়ের অধ্যায়ের লিংক দেওয়া আছে।

সব বিষয়

শ্রেণি অনুযায়ী

বিষয়

গণিত

শুরুতে ভিত্তি হিসেবে ভগ্নাংশ। তারপর নবম–দশম শ্রেণির সাধারণ গণিত বইয়ের অধ্যায়ের ক্রমে অ্যানিমেশন; ব্যবহারিক জ্যামিতি ও বীজগাণিতিক অনুপাত ছাড়া সব অধ্যায়ের জন্যই আছে। প্রতিটি টপিকের নিচে বইয়ের অধ্যায়ের লিংক দেওয়া আছে।

  1. ভগ্নাংশভিত্তি · পুরোটার সমান ভাগ
  2. বাস্তব সংখ্যাঅধ্যায় ১ · √2 সংখ্যারেখায়
  3. সেট ও ফাংশনঅধ্যায় ২ · ভেনচিত্র
  4. বীজগাণিতিক রাশিঅধ্যায় ৩ · (a + b)² ছবিতে
  5. সূচক ও লগারিদমঅধ্যায় ৪ · কতবার গুণ
  6. এক চলকের সমীকরণঅধ্যায় ৫ · দাঁড়িপাল্লা
  7. ত্রিভুজের কোণঅধ্যায় ৬ · সবসময় ১৮০°
  8. বৃত্তঅধ্যায় ৮ · কেন্দ্রস্থ কোণ
  9. ত্রিকোণমিতিক অনুপাতঅধ্যায় ৯ · sin, cos, tan
  10. দূরত্ব ও উচ্চতাঅধ্যায় ১০ · উন্নতি কোণ
  11. সরল সহসমীকরণঅধ্যায় ১২ · দুই রেখার মিলন
  12. সসীম ধারাঅধ্যায় ১৩ · সিঁড়ি জোড়া
  13. সদৃশতাঅধ্যায় ১৪ · ছায়া দিয়ে উচ্চতা
  14. পিথাগোরাসের উপপাদ্যঅধ্যায় ১৫ · সমকোণী ত্রিভুজের বর্গ
  15. পরিমিতিঅধ্যায় ১৬ · পরিধি ও ক্ষেত্রফল
  16. পরিসংখ্যানঅধ্যায় ১৭ · গড়, মধ্যক, প্রচুরক

গণিত · ষষ্ঠ শ্রেণি · টপিক ১

ভগ্নাংশ: পুরোটার সমান ভাগ

বইয়ে: ষষ্ঠ শ্রেণির গণিত, অধ্যায় ১

ভগ্নাংশ বোঝায় কোনো জিনিসকে সমান ভাগে কাটলে তার কতটুকু অংশ। ৩/৪-এ নিচের সংখ্যা (হর) বলে পুরোটা ৪টি সমান টুকরায় কাটা হয়েছে। ওপরের সংখ্যা (লব) বলে তোমার কাছে আছে তার ৩টি।

দুটি পিঠা, দুটোরই চার ভাগের তিন ভাগ রং করা। ডানের পিঠার প্রতিটি চতুর্থাংশ আবার দুই ভাগ করা হয়, দেখা যায় ৪ টুকরার ৩টি আর ৮ টুকরার ৬টি একই পরিমাণ। ৪ টুকরার ৩টি = ৩/৪ ৪ টুকরার ৩টি = ৩/৪ ৮ টুকরার ৬টি = ৬/৮
প্রতিটি টুকরা দুই ভাগ করো: টুকরা দ্বিগুণ, প্রতিটি অর্ধেক। রং করা অংশের পরিমাণ বদলায় না।

সমতুল ভগ্নাংশ

লব আর হরকে একই সংখ্যা দিয়ে গুণ (বা ভাগ) করলে পরিমাণ একই থাকে, শুধু টুকরার মাপ বদলায়: ৩/৪ = ৬/৮ = ৯/১২। যতদূর সম্ভব ভাগ করে ছোট করাকে বলে লঘিষ্ঠ আকারে প্রকাশ: ৬/৮ হয়ে যায় ৩/৪।

তুলনা আর যোগ

কোনটা বড়, ২/৩ না ৩/৪? দুটোকেই বারো ভাগে আনো: ২/৩ = ৮/১২ আর ৩/৪ = ৯/১২, তাই ৩/৪ বড়। যোগও একইভাবে: শুধু একই মাপের টুকরা যোগ করা যায়: ১/২ + ১/৪ = ২/৪ + ১/৪ = ৩/৪।

এক কথায়

ভগ্নাংশ মানে কয়টি সমান টুকরা; টুকরার মাপ বদলালে সংখ্যা বদলায়, কিন্তু পরিমাণ একই থাকে।

গণিত · নবম–দশম শ্রেণি · টপিক ২

বাস্তব সংখ্যা: যে সংখ্যা ভগ্নাংশে লেখা যায় না

বইয়ে: সপ্তম শ্রেণির গণিত, অধ্যায় ১ · নবম–দশম শ্রেণির সাধারণ গণিত, অধ্যায় ১

যে সংখ্যাকে দুটি পূর্ণসংখ্যার অনুপাত p/q (q ≠ ০) আকারে লেখা যায়, তা মূলদ সংখ্যা: ৩, −২, ৩/৪, ০.২৫, এমনকি ০.৩৩৩… (= ১/৩)। কিছু সংখ্যা কোনোভাবেই এভাবে লেখা যায় না; এরা অমূলদ সংখ্যা। মূলদ আর অমূলদ মিলে বাস্তব সংখ্যা।

বাহু ১ এমন একটি বর্গের কর্ণ পিথাগোরাসের উপপাদ্য অনুযায়ী √2। কর্ণটিকে শূন্য বিন্দুকে কেন্দ্র করে ঘুরিয়ে সংখ্যারেখার ওপর শোয়ালে এটি ১ আর ২-এর মাঝে, প্রায় ১.৪১৪ বিন্দুতে পড়ে। ০ ১ ২ ৩ বাহু = ১ √2 ≈ ১.৪১৪২… কর্ণ = √2
কম্পাস দিয়ে কর্ণটিকে সংখ্যারেখায় নামালে √2-এর ঠিক অবস্থান পাওয়া যায়, যদিও তার দশমিক রূপ কখনো শেষ হয় না।

দশমিকে পার্থক্য চেনো

  • মূলদ সংখ্যার দশমিক রূপ হয় শেষ হয়ে যায় (০.২৫), নয়তো একটা অংশ বারবার ফিরে আসে (০.১৪২৮৫৭১৪২৮৫৭…, যা ১/৭)।
  • অমূলদ সংখ্যার দশমিক রূপ শেষও হয় না, পুনরাবৃত্তও হয় না: √2 = ১.৪১৪২১৩…, π = ৩.১৪১৫৯২…।

√4 = ২ মূলদ, কিন্তু যে স্বাভাবিক সংখ্যা পূর্ণবর্গ নয় তার বর্গমূল (√2, √3, √5) অমূলদ।

এক কথায়

p/q আকারে লেখা গেলে সংখ্যা মূলদ, না গেলে অমূলদ; অমূলদ সংখ্যার দশমিক রূপ শেষও হয় না, পুনরাবৃত্তও হয় না, তবু সংখ্যারেখায় তার নির্দিষ্ট জায়গা আছে।

গণিত · নবম–দশম শ্রেণি · টপিক ৩

সেট ও ফাংশন: ভেনচিত্রে দেখো

বইয়ে: অষ্টম শ্রেণির গণিত, অধ্যায় ৭ · নবম–দশম শ্রেণির সাধারণ গণিত, অধ্যায় ২

সুনির্দিষ্টভাবে চেনা যায় এমন বস্তুর সংগ্রহকে বলে সেট। সেটকে বড় হাতের অক্ষরে আর উপাদানগুলো দ্বিতীয় বন্ধনীতে লেখা হয়: A = {২, ৪, ৬, ৮}। আলোচনার সব উপাদান নিয়ে সেটকে বলে সার্বিক সেট U।

সার্বিক সেট U-এর ভেতরে দুটি বৃত্ত A আর B। A-তে ২, ৪, ৬, ৮; B-তে ৩, ৬, ৯; দুটির সাধারণ উপাদান ৬। প্রথমে দুটি বৃত্তই রঙিন হয় (সংযোগ), তারপর শুধু মাঝের সাধারণ অংশ (ছেদ)। U AB ২ ৪ ৮ ৬ ৩ ৯ ১ ৫ ৭ A = {২, ৪, ৬, ৮}, B = {৩, ৬, ৯} সংযোগ A ∪ B = {২, ৩, ৪, ৬, ৮, ৯} ছেদ A ∩ B = {৬}
সংযোগে দুই সেটের সব উপাদান, ছেদে শুধু সাধারণ উপাদান। ১, ৫, ৭ আছে U-তে, কিন্তু A বা B কোনোটিতেই নয়।
  • উপসেট: B-এর সব উপাদান A-তে থাকলে B ⊆ A। যেমন {২, ৪} ⊆ {২, ৪, ৬, ৮}।
  • পূরক সেট: U-এর যে উপাদানগুলো A-তে নেই: A′ = {১, ৩, ৫, ৭, ৯}।

ফাংশন: একটা মেশিন

ফাংশন এমন এক নিয়ম, যেখানে প্রতিটি ইনপুটের জন্য ঠিক একটি আউটপুট। f(x) = 2x + 1 মেশিনে ৩ দিলে বেরোয় ৭, ৫ দিলে ১১। যেসব মান ইনপুট দেওয়া যায় তা ডোমেন, আর যেসব আউটপুট আসে তা রেঞ্জ।

এক কথায়

সেট হলো সুনির্দিষ্ট বস্তুর সংগ্রহ; সংযোগে সব উপাদান, ছেদে শুধু সাধারণগুলো, আর ফাংশন প্রতিটি ইনপুটকে ঠিক একটি আউটপুট দেয়।

গণিত · নবম–দশম শ্রেণি · টপিক ৪

বীজগাণিতিক রাশি: (a + b)² ছবিতে

বইয়ে: অষ্টম শ্রেণির গণিত, অধ্যায় ৪ · নবম–দশম শ্রেণির সাধারণ গণিত, অধ্যায় ৩

বীজগণিতের সূত্র মুখস্থ না করে ছবিতে দেখলে আর ভোলা যায় না। (a + b)² মানে এমন এক বর্গের ক্ষেত্রফল, যার প্রতিটি বাহু a + b।

a + b বাহুর একটি বর্গ চার টুকরায় ভাগ হয়: একটি a² বর্গ, একটি b² বর্গ, আর দুটি ab আয়তক্ষেত্র। চারটি যোগ করলে (a + b)² = a² + 2ab + b²। ab ab a² ab ab b² (a + b)² = a² + 2ab + b²
বড় বর্গের ভেতরে একটি a², একটি b² আর দুটি ab। তাই (a + b)² = a² + 2ab + b², শুধু a² + b² নয়।

আরও দুটি সূত্র

(a − b)² = a² − 2ab + b²

a² − b² = (a + b)(a − b)

মনে মনে হিসাব

  • ১০১² = (১০০ + ১)² = ১০,০০০ + ২০০ + ১ = ১০,২০১
  • ৯৮ × ১০২ = (১০০ − ২)(১০০ + ২) = ১০,০০০ − ৪ = ৯,৯৯৬

এক কথায়

(a + b)² হলো a + b বাহুর বর্গের ক্ষেত্রফল, যা ভাঙলে পাওয়া যায় a², b² আর দুটি ab।

গণিত · নবম–দশম শ্রেণি · টপিক ৫

সূচক ও লগারিদম: কতবার গুণ করলাম?

বইয়ে: নবম–দশম শ্রেণির সাধারণ গণিত, অধ্যায় ৪

একই সংখ্যাকে বারবার গুণ করাকে ছোট করে লেখা হয় সূচকে: ২ × ২ × ২ × ২ × ২ = 2⁵ = ৩২। এখানে ২ ভিত্তি, ৫ সূচক।

লগারিদম উল্টো প্রশ্নের উত্তর দেয়: ৩২ পেতে ২-কে কতবার গুণ করতে হয়? উত্তর ৫, তাই log₂ ৩২ = ৫।

একটি সংখ্যা বারবার দ্বিগুণ হচ্ছে: ১, ২, ৪, ৮, ১৬, ৩২। পাঁচবার দ্বিগুণ করে ৩২ পাওয়া যায়, তাই ২-ভিত্তিক লগারিদমে log ৩২ = ৫। ১ ০ বার ২ ১ বার ৪ ২ বার ৮ ৩ বার ১৬ ৪ বার ৩২ ৫ বার কতবার দ্বিগুণ হলো → ২⁵ = ৩২, তাই log₂ ৩২ = ৫
প্রতিবার দ্বিগুণ: ১ → ২ → ৪ → ৮ → ১৬ → ৩২। লগারিদম গোনে কতবার।

সূচকের নিয়ম

  • aᵐ × aⁿ = aᵐ⁺ⁿ (যেমন 2³ × 2² = 2⁵)
  • aᵐ ÷ aⁿ = aᵐ⁻ⁿ, আর a⁰ = ১ (a ≠ ০)
  • (aᵐ)ⁿ = aᵐⁿ

aˣ = N হলে logₐ N = x

১০-ভিত্তিক লগারিদমে log ১০০০ = ৩, কারণ 10³ = ১০০০। খুব বড় বা ছোট সংখ্যা লেখা হয় বৈজ্ঞানিক রূপে: পৃথিবী থেকে সূর্যের দূরত্ব প্রায় ১.৫ × 10⁸ কিলোমিটার।

এক কথায়

সূচক বলে কতবার গুণ, লগারিদম বলে ফল পেতে কতবার গুণ লাগে: 2⁵ = ৩২ মানেই log₂ ৩২ = ৫।

গণিত · নবম–দশম শ্রেণি · টপিক ৬

এক চলকবিশিষ্ট সমীকরণ: দাঁড়িপাল্লার খেলা

বইয়ে: ষষ্ঠ শ্রেণির গণিত, অধ্যায় ৫ · নবম–দশম শ্রেণির সাধারণ গণিত, অধ্যায় ৫

সমীকরণ মানে দুই দিক সমান, ঠিক সমান ভারের দাঁড়িপাল্লার মতো। অজানা সংখ্যা x বের করতে দুই দিকে একই কাজ করতে হয়: একই সংখ্যা যোগ, বিয়োগ, গুণ বা ভাগ (শূন্য দিয়ে ভাগ ছাড়া)। তাহলে পাল্লা সমানই থাকে।

দাঁড়িপাল্লার বাঁ দিকে একটি অজানা x আর ৩টি একক, ডান দিকে ৭টি একক। দুই দিক থেকে ৩টি করে একক সরালে বাঁ দিকে শুধু x আর ডান দিকে ৪টি একক থাকে, তাই x = ৪। x x + ৩ = ৭ দুই দিক থেকে ৩ সরাও: x + ৩ − ৩ = ৭ − ৩ x = ৪ দুই পাল্লায় একই কাজ করলে দাঁড়িপাল্লা সমান থাকে
x + ৩ = ৭: দুই পাল্লা থেকে ৩টি করে সরালে পাল্লা সমান থাকে, আর দেখা যায় x = ৪।

আরেকটা উদাহরণ

৩x − ৫ = ১০ → দুই দিকে ৫ যোগ: ৩x = ১৫ → দুই দিককে ৩ দিয়ে ভাগ: x = ৫। শেষে মিলিয়ে দেখো: ৩ × ৫ − ৫ = ১০ ✓।

দ্বিঘাত সমীকরণ

x² = ৯ সমীকরণের দুটি সমাধান: x = ৩ অথবা x = −৩, কারণ দুটোর বর্গই ৯। x² − ৫x + ৬ = ০ উৎপাদকে ভাঙলে (x − ২)(x − ৩) = ০, তাই x = ২ অথবা ৩।

এক কথায়

সমীকরণের দুই দিকে একই কাজ করলে সমতা বজায় থাকে; এভাবে ধাপে ধাপে x-কে একা করলেই সমাধান।

গণিত · সপ্তম শ্রেণি · টপিক ৭

ত্রিভুজের কোণ: সবসময় ১৮০°

বইয়ে: সপ্তম শ্রেণির গণিত, অধ্যায় ৯ · নবম–দশম শ্রেণির সাধারণ গণিত, অধ্যায় ৬

যেমন খুশি ত্রিভুজ আঁকো: লম্বা, চ্যাপ্টা, বাঁকা। তিনটি কোণ যোগ করলে সবসময় পাবে ১৮০°, অর্থাৎ দুই সমকোণ, একটা সরলরেখার সমান।

একটি ত্রিভুজের তিন কোণ রং করা। নিচের দুটি কোণ ঘুরে ওপরের কোণে চলে যায়, আর ওপরের কোণের সঙ্গে মিলে একটি সরলরেখা, অর্থাৎ ১৮০ ডিগ্রি, পূর্ণ করে। a + b + c = ১৮০°
নিচের দুটি কোণ ঘুরিয়ে ওপরে নাও: তিনটি কোণ মিলে একটা সরলরেখা হয়।

কেন এমন হয়

ওপরের শীর্ষবিন্দু দিয়ে ভূমির সমান্তরাল একটা রেখা আঁকো। সেই রেখা আর প্রতিটি হেলানো বাহুর মধ্যের কোণ একই দিকের নিচের কোণের সমান (এরা একান্তর কোণ)। তাই তিনটি কোণ পাশাপাশি বসে একটা সরলরেখা তৈরি করে, আর সরলরেখা মানে ১৮০°।

কাজে লাগাও

  • দুটি কোণ ৫০° আর ৬০° হলে তৃতীয়টি ১৮০ − ৫০ − ৬০ = ৭০°।
  • সমবাহু ত্রিভুজের তিনটি কোণই সমান, তাই প্রতিটি ১৮০ ÷ ৩ = ৬০°।
  • সমকোণী ত্রিভুজের বাকি দুটি সূক্ষ্মকোণের যোগফল সবসময় ৯০°।

নিজে করে দেখো

কাগজ থেকে একটা ত্রিভুজ কেটে নাও, কোণগুলোতে রং করো, তারপর ছিঁড়ে আলাদা করো। ছেঁড়া তিনটি কোণের মাথা এক বিন্দুতে মিলিয়ে পাশাপাশি রাখো। যে ত্রিভুজ দিয়েই শুরু করো, তারা একটা সোজা রেখায় মিলে যাবে।

এক কথায়

যেকোনো ত্রিভুজের তিন কোণের সমষ্টি ১৮০°, অর্থাৎ দুই সমকোণ।

গণিত · নবম–দশম শ্রেণি · টপিক ৮

বৃত্ত: কেন্দ্রস্থ কোণ বৃত্তস্থ কোণের দ্বিগুণ

বইয়ে: অষ্টম শ্রেণির গণিত, অধ্যায় ১০ · নবম–দশম শ্রেণির সাধারণ গণিত, অধ্যায় ৮

বৃত্তের কেন্দ্র থেকে পরিধির দূরত্ব ব্যাসার্ধ, পরিধির দুই বিন্দুর সংযোগ রেখা জ্যা, আর কেন্দ্রগামী জ্যা ব্যাস (= ২ × ব্যাসার্ধ)।

একটি বৃত্তে জ্যা AB। কেন্দ্র O-তে AB যে কোণ তৈরি করে তা ১২০ ডিগ্রি। বৃত্তের ওপরের চাপে একটি বিন্দু P সরতে থাকে, কিন্তু কোণ APB সবসময় ৬০ ডিগ্রিই থাকে। O AB কেন্দ্রস্থ কোণ AOB = ১২০° বৃত্তস্থ কোণ APB = সবসময় ৬০°
P চাপের ওপর যেখানেই যাক, কোণ APB একই থাকে, আর তা কেন্দ্রস্থ কোণ AOB-র ঠিক অর্ধেক।

বৃত্তের কয়েকটি উপপাদ্য

  • একই চাপের ওপর দাঁড়ানো কেন্দ্রস্থ কোণ বৃত্তস্থ কোণের দ্বিগুণ।
  • একই চাপের ওপর দাঁড়ানো সব বৃত্তস্থ কোণ সমান।
  • অর্ধবৃত্তস্থ কোণ (ব্যাসের ওপর দাঁড়ানো) সমকোণ, অর্থাৎ ৯০°, কারণ কেন্দ্রস্থ কোণ তখন ১৮০°।
  • স্পর্শক তার স্পর্শবিন্দুগামী ব্যাসার্ধের ওপর লম্ব।

এক কথায়

একই চাপের ওপর কেন্দ্রস্থ কোণ বৃত্তস্থ কোণের দ্বিগুণ, তাই সব বৃত্তস্থ কোণ সমান আর অর্ধবৃত্তস্থ কোণ সমকোণ।

গণিত · নবম–দশম শ্রেণি · টপিক ৯

ত্রিকোণমিতিক অনুপাত: কোণ থেকে বাহু

বইয়ে: নবম–দশম শ্রেণির সাধারণ গণিত, অধ্যায় ৯

সমকোণী ত্রিভুজে একটি সূক্ষ্মকোণ θ নিলে তার বিপরীত বাহু লম্ব, পাশের বাহু ভূমি, আর সবচেয়ে বড় বাহু অতিভুজ। কোণ নির্দিষ্ট থাকলে ত্রিভুজ বড়-ছোট যা-ই হোক, বাহুগুলোর অনুপাত একই থাকে।

  • sin θ = লম্ব ÷ অতিভুজ
  • cos θ = ভূমি ÷ অতিভুজ
  • tan θ = লম্ব ÷ ভূমি = sin θ ÷ cos θ
ব্যাসার্ধ ১ এমন একটি বৃত্তের ভেতরে একটি সমকোণী ত্রিভুজ। কোণ θ বাড়লে-কমলে খাড়া লম্ব (sin θ) আর আড়াআড়ি ভূমি (cos θ) বদলায়। θ লম্ব → sin θ ভূমি → cos θ অতিভুজ = ১ কোণ বাড়লে sin বাড়ে,cos কমে
অতিভুজ ১ ধরলে লম্বের দৈর্ঘ্যই sin θ আর ভূমির দৈর্ঘ্যই cos θ।

যে মানগুলো মনে রাখার মতো

sin ৩০° = ১/২, cos ৬০° = ১/২, tan ৪৫° = ১, sin ৯০° = ১, cos ০° = ১। পিথাগোরাসের উপপাদ্য থেকেই আসে সবচেয়ে দরকারি অভেদ:

sin²θ + cos²θ = ১

এক কথায়

sin = লম্ব/অতিভুজ, cos = ভূমি/অতিভুজ, tan = লম্ব/ভূমি; কোণ ঠিক থাকলে অনুপাতগুলো ত্রিভুজের আকারের ওপর নির্ভর করে না।

গণিত · নবম–দশম শ্রেণি · টপিক ১০

দূরত্ব ও উচ্চতা: গাছে না উঠেই উচ্চতা মাপা

বইয়ে: নবম–দশম শ্রেণির সাধারণ গণিত, অধ্যায় ১০

গাছ, টাওয়ার বা নদীর ওপারের বাড়ি: উঠে বা পার হয়ে মাপা কঠিন। কিন্তু মাটিতে দাঁড়িয়ে একটা দূরত্ব আর একটা কোণ মাপলেই ত্রিকোণমিতি বাকিটা বলে দেয়।

সমতল থেকে ওপরের কোনো বিন্দুর দিকে তাকালে দৃষ্টিরেখা আর আনুভূমিক রেখার মধ্যের কোণকে বলে উন্নতি কোণ; ওপর থেকে নিচে তাকালে তা অবনতি কোণ।

গাছ থেকে ২০ মিটার দূরে দাঁড়িয়ে গাছের মাথার দিকে তাকালে উন্নতি কোণ ৩০ ডিগ্রি। দৃষ্টিরেখা ঘুরে গাছের মাথায় পৌঁছায়, আর উচ্চতা বের হয় ২০ × tan ৩০° ≈ ১১.৫৫ মিটার। তুমি ২০ মিটার ৩০° h ≈ ১১.৫৫ মি h = ২০ × tan ৩০° = ২০ × ০.৫৭৭ ≈ ১১.৫৫ মিটার
দূরত্ব আর উন্নতি কোণ জানলে উচ্চতা = দূরত্ব × tan (উন্নতি কোণ)।

বাস্তবে চোখ মাটি থেকে একটু ওপরে থাকে, তাই নিখুঁত উত্তরের জন্য চোখের উচ্চতা (ধরো ১.৫ মিটার) যোগ করতে হয়। কোণ মাপা যায় ক্লিনোমিটার দিয়ে, এমনকি স্কুলের চাঁদা আর একটা সুতো-ঝোলানো ভার দিয়ে বানানো যন্ত্রেও।

এক কথায়

উন্নতি কোণ আর দূরত্ব জানলে উচ্চতা = দূরত্ব × tan কোণ; এভাবে না উঠেই গাছ বা টাওয়ারের উচ্চতা মাপা যায়।

গণিত · নবম–দশম শ্রেণি · টপিক ১১

দুই চলকবিশিষ্ট সরল সহসমীকরণ: দুই রেখার মিলনবিন্দু

বইয়ে: অষ্টম শ্রেণির গণিত, অধ্যায় ৬ · নবম–দশম শ্রেণির সাধারণ গণিত, অধ্যায় ১২

দুটি অজানা x আর y-এর জন্য দুটি শর্ত: দুটি সংখ্যার যোগফল ৫, বিয়োগফল ১। প্রতিটি সমীকরণের লেখচিত্র একটি সরলরেখা; যে বিন্দুতে দুই রেখা মেলে, সেটিই দুই শর্তই একসঙ্গে মানে।

লেখচিত্রে x + y = ৫ আর x − y = ১ দুটি সরলরেখা আঁকা হয়। রেখা দুটি (৩, ২) বিন্দুতে ছেদ করে, তাই x = ৩, y = ২। 1 2 3 4 5 6 7 8 1 2 3 4 5 (৩, ২) x + y = ৫ x − y = ১
দুই রেখার ছেদবিন্দু (৩, ২): x = ৩, y = ২। মিলিয়ে দেখো: ৩ + ২ = ৫, ৩ − ২ = ১।

বীজগণিতে সমাধান

অপনয়ন পদ্ধতি: দুই সমীকরণ যোগ করো: (x + y) + (x − y) = ৫ + ১, অর্থাৎ ২x = ৬, x = ৩। তারপর প্রথমটিতে বসাও: ৩ + y = ৫, তাই y = ২।

প্রতিস্থাপন পদ্ধতি: দ্বিতীয়টি থেকে x = y + ১; প্রথমটিতে বসাও: (y + ১) + y = ৫, তাই y = ২ আর x = ৩।

রেখা দুটি সমান্তরাল হলে কখনো মেলে না, তখন কোনো সমাধান নেই; আর দুটি একই রেখা হলে সমাধান অসংখ্য।

এক কথায়

সহসমীকরণের সমাধান হলো দুই রেখার ছেদবিন্দু, যা অপনয়ন বা প্রতিস্থাপন পদ্ধতিতে বীজগণিত দিয়েও বের করা যায়।

গণিত · নবম–দশম শ্রেণি · টপিক ১২

সসীম ধারা: সিঁড়ি জোড়া দিয়ে যোগফল

বইয়ে: অষ্টম শ্রেণির গণিত, অধ্যায় ১ · নবম–দশম শ্রেণির সাধারণ গণিত, অধ্যায় ১৩

নির্দিষ্ট নিয়মে সাজানো সংখ্যার যোগফলকে বলে ধারা। ১ + ২ + ৩ + … + n-এর প্রতিটি পদ আগেরটির চেয়ে একই পরিমাণ (১) বেশি: এটা সমান্তর ধারা।

১, ২, ৩, ৪, ৫ উচ্চতার কলাম দিয়ে একটি সিঁড়ি। একই রকম আরেকটি সিঁড়ি উল্টো করে পাশে এনে বসালে ৫ চওড়া আর ৬ উঁচু একটি আয়তক্ষেত্র হয়। আয়তক্ষেত্রে ৩০টি ঘর, তাই একটি সিঁড়িতে ১৫টি। প্রস্থ ৫ উচ্চতা ৬ দুই সিঁড়ি = ৫ × ৬ = ৩০, তাই এক সিঁড়ি = ১৫ ১ + ২ + ৩ + ৪ + ৫ = ?
দুটি একই সিঁড়ি মিলে n × (n + ১) আয়তক্ষেত্র, তাই একটি সিঁড়ি = n(n + ১) ÷ ২।

১ + ২ + ৩ + … + n = n(n + ১) ÷ ২

শোনা যায়, ছোট্ট কার্ল ফ্রিডরিখ গাউস এই কৌশলে মুহূর্তেই ১ থেকে ১০০ পর্যন্ত যোগ করেছিলেন: ১০০ × ১০১ ÷ ২ = ৫,০৫০।

সাধারণ সমান্তর ধারা

প্রথম পদ a, সাধারণ অন্তর d হলে n-তম পদ = a + (n − ১)d, আর প্রথম n পদের যোগফল = (n/২){২a + (n − ১)d}। যেমন ২ + ৫ + ৮ + … (১০ পদ) = ৫ × (৪ + ২৭) = ১৫৫।

প্রতিটি পদ আগেরটির নির্দিষ্ট গুণ হলে তা গুণোত্তর ধারা: ১ + ২ + ৪ + ৮ + …

এক কথায়

দুটি একই সিঁড়ি জোড়া দিলে আয়তক্ষেত্র হয়, তাই ১ + ২ + … + n = n(n + ১)/২।

গণিত · নবম–দশম শ্রেণি · টপিক ১৩

অনুপাত, সদৃশতা ও প্রতিসমতা: ছায়া দিয়ে উচ্চতা

বইয়ে: নবম–দশম শ্রেণির সাধারণ গণিত, অধ্যায় ১৪

দুটি ত্রিভুজের কোণগুলো সমান হলে তারা সদৃশ: আকার আলাদা, কিন্তু আকৃতি এক। সদৃশ ত্রিভুজের অনুরূপ বাহুগুলোর অনুপাত সমান।

একই সময়ে সূর্যের আলোয় ২ মিটার খুঁটির ছায়া ৩ মিটার, আর একটি গাছের ছায়া ১৫ মিটার। খুঁটির ত্রিভুজটি পাঁচ গুণ বড় হয়ে গাছের ত্রিভুজের সঙ্গে মিলে যায়, তাই গাছের উচ্চতা ১০ মিটার। সূর্যের আলো খুঁটি ২ মি ছায়া ৩ মি গাছের ছায়া ১৫ মি গাছ = ১০ মি
সূর্যের রশ্মি সমান্তরাল, তাই খুঁটি আর গাছের ত্রিভুজ সদৃশ: উচ্চতা ÷ ছায়া একই। ২ ÷ ৩ = গাছ ÷ ১৫, তাই গাছ = ১০ মিটার।

প্রাচীন গ্রিক গণিতবিদ থেলিসের নামে প্রচলিত গল্প আছে: তিনি এভাবেই ছায়া মেপে মিশরের পিরামিডের উচ্চতা বের করেছিলেন। মানচিত্রও সদৃশতার উদাহরণ: স্কেল ১ : ১০,০০,০০০ মানে মানচিত্রের ১ সেমি আসলে ১০ কিলোমিটার।

প্রতিসমতা

কোনো রেখা বরাবর ভাঁজ করলে দুই অংশ হুবহু মিলে গেলে চিত্রটি রৈখিক প্রতিসম, আর রেখাটি প্রতিসাম্য রেখা। বর্গের প্রতিসাম্য রেখা ৪টি, সমবাহু ত্রিভুজের ৩টি, বৃত্তের অসংখ্য। আমাদের জাতীয় স্মৃতিসৌধ আর শহিদ মিনারের নকশাও প্রতিসম।

এক কথায়

সদৃশ ত্রিভুজের কোণ সমান আর বাহুর অনুপাত সমান; তাই ছোট খুঁটির ছায়া দিয়ে বড় গাছের উচ্চতা বের করা যায়।

গণিত · নবম–দশম শ্রেণি · টপিক ১৪

পিথাগোরাসের উপপাদ্য: সমকোণী ত্রিভুজের বর্গ

বইয়ে: অষ্টম শ্রেণির গণিত, অধ্যায় ৯ · নবম–দশম শ্রেণির সাধারণ গণিত, অধ্যায় ১৫

যেকোনো সমকোণী (৯০°) ত্রিভুজ নাও। সমকোণের বিপরীত দিকের সবচেয়ে বড় বাহুটির নাম অতিভুজ। প্রতিটি বাহুর ওপর একটা করে বর্গ আঁকো। অতিভুজের ওপরের বড় বর্গের ক্ষেত্রফল সবসময় বাকি দুটি ছোট বর্গের ক্ষেত্রফলের যোগফলের সমান।

a² + b² = c²

একটি সমকোণী ত্রিভুজ, প্রতিটি বাহুর ওপর একটি বর্গ। বর্গের ভেতরের সংখ্যাগুলো তাদের ক্ষেত্রফল; ছোট দুটির যোগফল বড়টির সমান। ৯ ১৬ ২৫
a² + b² = ৯ + ১৬ = ২৫ = c², তাই c = ৫

a আর b সরিয়ে ত্রিভুজটা বদলাও। যে আকারই বানাও, ছোট দুটি বর্গ মিলে সবসময় বড়টির সমান হয়। ৬ আর ৮ দিয়ে চেষ্টা করো: আরেকটা পূর্ণসংখ্যার ত্রিভুজ পাবে।

রাজমিস্ত্রিরা প্রতিদিন এটা কাজে লাগান

কোনো কোণ ঠিক সমকোণ কি না দেখতে রাজমিস্ত্রি এক দেয়াল বরাবর ৩ মিটার আর অন্য দেয়াল বরাবর ৪ মিটার মাপেন। দুই দাগের মধ্যের কোনাকুনি দূরত্ব ঠিক ৫ মিটার হলে কোণটি সত্যিকারের সমকোণ, কারণ ৯ + ১৬ = ২৫।

মইয়ের প্রশ্নেরও উত্তর মেলে: ৫ মিটার লম্বা মইয়ের গোড়া দেয়াল থেকে ৩ মিটার দূরে থাকলে মইটি দেয়ালের ৪ মিটার উঁচুতে পৌঁছায়।

এক কথায়

সমকোণী ত্রিভুজে অতিভুজের ওপর অঙ্কিত বর্গ বাকি দুই বাহুর ওপর অঙ্কিত বর্গের সমষ্টির সমান: a² + b² = c²।

গণিত · নবম–দশম শ্রেণি · টপিক ১৫

পরিমিতি: বৃত্তের পরিধি আর ক্ষেত্রফল

বইয়ে: সপ্তম শ্রেণির গণিত, অধ্যায় ৩ · নবম–দশম শ্রেণির সাধারণ গণিত, অধ্যায় ১৬

যেকোনো বৃত্তের পরিধিকে তার ব্যাস দিয়ে ভাগ করলে একই সংখ্যা পাওয়া যায়: π (পাই), প্রায় ৩.১৪১৬। তাই পরিধি = π × ব্যাস = 2πr।

ব্যাসার্ধ r-এর একটি চাকা এক পাক গড়িয়ে যায়। চাকার গায়ের দাগটি আবার নিচে আসা পর্যন্ত চাকা যতটা পথ যায়, তা তার পরিধি, 2πr, অর্থাৎ ব্যাসার্ধের প্রায় ৬.২৮ গুণ। এক পাক = পরিধি = 2πr ব্যাসার্ধ r-এর চাকা একবার ঘুরলে মাটিতে প্রায় ৬.২৮ × r পথ যায়
চাকা এক পাক ঘুরলে ঠিক পরিধির সমান পথ যায়: 2πr। সাইকেলের চাকার মিটার এভাবেই দূরত্ব মাপে।

ক্ষেত্রফল কেন πr²

বৃত্তকে পিৎজার মতো অনেকগুলো সরু টুকরায় কাটো, তারপর টুকরাগুলো একবার ওপরমুখী একবার নিচমুখী করে পাশাপাশি সাজাও। প্রায় একটা আয়তক্ষেত্র হয়, যার দৈর্ঘ্য পরিধির অর্ধেক (πr) আর প্রস্থ ব্যাসার্ধ (r)। টুকরা যত সরু, আকৃতি তত নিখুঁত আয়তক্ষেত্র।

ক্ষেত্রফল = πr × r = πr²

উদাহরণ: ৭ সেমি ব্যাসার্ধের রুটির ক্ষেত্রফল ≈ ৩.১৪১৬ × ৪৯ ≈ ১৫৪ বর্গসেমি। আয়তনে: বেলনের (সিলিন্ডারের) আয়তন = πr²h, তাই ১০ সেমি উঁচু, ৭ সেমি ব্যাসার্ধের পানির বোতলে ধরে প্রায় ১,৫৪০ ঘন সেমি বা ১.৫৪ লিটার।

এক কথায়

পরিধি = 2πr, কারণ চাকা এক পাকে পরিধির সমান পথ যায়; আর বৃত্তকে কেটে আয়তক্ষেত্রে সাজালে ক্ষেত্রফল দাঁড়ায় πr²।

গণিত · নবম–দশম শ্রেণি · টপিক ১৬

পরিসংখ্যান: গড়, মধ্যক আর প্রচুরক

বইয়ে: অষ্টম শ্রেণির গণিত, অধ্যায় ১১ · নবম–দশম শ্রেণির সাধারণ গণিত, অধ্যায় ১৭

অনেকগুলো সংখ্যা (উপাত্ত) একসঙ্গে বোঝাতে আমরা একটা "প্রতিনিধি" সংখ্যা খুঁজি। এদের বলে কেন্দ্রীয় প্রবণতার পরিমাপ: গড়, মধ্যক আর প্রচুরক।

ছয়টি স্তম্ভের উচ্চতা ২, ৮, ৫, ৯, ৫, ৭। উঁচু স্তম্ভ থেকে নিচু স্তম্ভে সমান করে ভাগ করে দিলে সবগুলো ৬ উচ্চতায় দাঁড়ায়: এটাই গড়। ২ ৮ ৫ ৯ ৫ ৭ গড় = ৩৬ ÷ ৬ = ৬ উপাত্ত: ২, ৮, ৫, ৯, ৫, ৭ (যোগফল ৩৬)
গড় মানে সবাইকে সমান ভাগ করে দিলে প্রত্যেকে যতটুকু পায়: মোট ৩৬, ছয়জনে ভাগ করলে প্রত্যেকে ৬।
  • গড়: সব উপাত্তের যোগফল ÷ উপাত্তের সংখ্যা = ৩৬ ÷ ৬ = ৬।
  • মধ্যক: উপাত্ত ছোট থেকে বড় সাজালে মাঝের মান। ২, ৫, ৫, ৭, ৮, ৯-এ মাঝে দুটি মান (৫ আর ৭), তাই মধ্যক (৫ + ৭) ÷ ২ = ৬।
  • প্রচুরক: যে মান সবচেয়ে বেশিবার আসে: এখানে ৫।

খুব বড় বা খুব ছোট কোনো একটা মান গড়কে অনেক টেনে নিতে পারে, কিন্তু মধ্যককে কম। তাই কোনো এলাকার "সাধারণ" আয় বোঝাতে প্রায়ই মধ্যক বেশি কাজের।

উপাত্ত সহজে দেখাতে ব্যবহার হয় আয়তলেখ, রেখাচিত্র আর পাইচিত্র।

এক কথায়

গড় = যোগফল ÷ সংখ্যা, মধ্যক = সাজানো উপাত্তের মাঝের মান, প্রচুরক = সবচেয়ে বেশিবার আসা মান।