টপিক · বিষয়

জীববিজ্ঞান

নবম–দশম শ্রেণির জীববিজ্ঞান বইয়ের ১৪টি অধ্যায়ের প্রতিটির জন্য অন্তত একটি করে অ্যানিমেশন আছে, সাজানো অধ্যায়ের ক্রমে। প্রতিটি টপিকের নিচে বইয়ের অধ্যায়ের লিংক দেওয়া আছে।

সব বিষয়

শ্রেণি অনুযায়ী

বিষয়

জীববিজ্ঞান

নবম–দশম শ্রেণির জীববিজ্ঞান বইয়ের ১৪টি অধ্যায়ের প্রতিটির জন্য অন্তত একটি করে অ্যানিমেশন আছে, সাজানো অধ্যায়ের ক্রমে। প্রতিটি টপিকের নিচে বইয়ের অধ্যায়ের লিংক দেওয়া আছে।

  1. জীবন পাঠঅধ্যায় ১ · শ্রেণিবিন্যাস
  2. জীবকোষ ও টিস্যুঅধ্যায় ২ · জীবনের একক
  3. কোষ বিভাজনঅধ্যায় ৩ · এক থেকে দুই
  4. সালোকসংশ্লেষণঅধ্যায় ৪ · পাতা যেন রান্নাঘর
  5. পরিপাকঅধ্যায় ৫ · খাবারের যাত্রা
  6. হৃৎপিণ্ড ও রক্তঅধ্যায় ৬ · দুটি পাম্প, একটি পথ
  7. শ্বাসক্রিয়াঅধ্যায় ৭ · মধ্যচ্ছদার পাম্প
  8. রেচনঅধ্যায় ৮ · বৃক্কের ছাঁকনি
  9. দৃঢ়তা প্রদান ও চলনঅধ্যায় ৯ · হাড় আর পেশির জুটি
  10. সমন্বয়অধ্যায় ১০ · স্নায়ু আর হরমোন
  11. জীবের প্রজননঅধ্যায় ১১ · ফুল থেকে বীজ
  12. বংশগতি ও বিবর্তনঅধ্যায় ১২ · মেন্ডেলের মটরশুঁটি
  13. জীবের পরিবেশঅধ্যায় ১৩ · শক্তির পিরামিড
  14. জীবপ্রযুক্তিঅধ্যায় ১৪ · জিন কেটে জোড়া

জীববিজ্ঞান · নবম–দশম শ্রেণি · টপিক ১

জীবন পাঠ: জীবের শ্রেণিবিন্যাস

বইয়ে: নবম–দশম শ্রেণির জীববিজ্ঞান, অধ্যায় ১

পৃথিবীতে লাখ লাখ প্রজাতির জীব। এদের চেনা আর বোঝার সুবিধার জন্য মিল-অমিল দেখে ধাপে ধাপে দলে ভাগ করা হয়; একে বলে শ্রেণিবিন্যাস। সবচেয়ে বড় দল জগৎ, সবচেয়ে ছোট প্রজাতি।

জগৎ থেকে প্রজাতি পর্যন্ত শ্রেণিবিন্যাসের সাতটি ধাপ, প্রতিটি আগেরটির চেয়ে ছোট। মানুষের উদাহরণ: Animalia, Chordata, Mammalia, Primates, Hominidae, Homo, sapiens। জগৎAnimalia পর্বChordata শ্রেণিMammalia বর্গPrimates গোত্রHominidae গণHomo প্রজাতিsapiens মানুষের বৈজ্ঞানিক নাম: Homo sapiens
জগৎ → পর্ব → শ্রেণি → বর্গ → গোত্র → গণ → প্রজাতি: প্রতিটি ধাপে দল ছোট হয়, মিল বাড়ে।

দ্বিপদ নামকরণ

একই জীবের নাম একেক অঞ্চলে একেক রকম, তাই বিজ্ঞানীরা ক্যারোলাস লিনিয়াসের প্রবর্তিত দুই অংশের ল্যাটিন নাম ব্যবহার করেন: প্রথমে গণ, তারপর প্রজাতি, বাঁকা অক্ষরে লেখা। মানুষ Homo sapiens, আম Mangifera indica, বাঘ Panthera tigris।

পাঁচ জগৎ

আর. এইচ. হুইটেকারের পাঁচ জগৎ পদ্ধতিতে জীবজগৎ ভাগ করা হয়: মনেরা (ব্যাকটেরিয়া, নিউক্লিয়াস সুগঠিত নয়), প্রোটিস্টা (অ্যামিবা, শৈবাল), ছত্রাক (মাশরুম, ইস্ট), উদ্ভিদ আর প্রাণী।

এক কথায়

মিল-অমিল দেখে জীবকে জগৎ থেকে প্রজাতি পর্যন্ত সাত ধাপে সাজানো হয়, আর প্রতিটি প্রজাতির থাকে গণ ও প্রজাতি নিয়ে দুই অংশের বৈজ্ঞানিক নাম।

জীববিজ্ঞান · নবম–দশম শ্রেণি · টপিক ২

জীবকোষ ও টিস্যু: জীবনের একক

বইয়ে: ষষ্ঠ শ্রেণির বিজ্ঞান, অধ্যায় ৩ · নবম–দশম শ্রেণির জীববিজ্ঞান, অধ্যায় ২

সব জীব কোষ দিয়ে তৈরি, আর নতুন কোষ আসে আগের কোষ থেকেই: এটাই কোষতত্ত্ব (শ্লাইডেন ও শোয়ান, ১৮৩৮–৩৯)। ব্যাকটেরিয়া এক কোষেই পুরো জীব; মানুষের শরীরে কোষ লাখ কোটি।

বাঁয়ে একটি প্রাণিকোষ, ডানে একটি উদ্ভিদকোষ। একে একে নিউক্লিয়াস, মাইটোকন্ড্রিয়া, কোষপ্রাচীর, ক্লোরোপ্লাস্ট আর কোষগহ্বর চিহ্নিত হয়। প্রাণিকোষউদ্ভিদকোষ নিউক্লিয়াস: কোষের নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র, এতে থাকে DNA মাইটোকন্ড্রিয়া: শক্তি তৈরি করে, তাই "কোষের শক্তিঘর" কোষপ্রাচীর: শুধু উদ্ভিদকোষে, কোষকে শক্ত রাখে ক্লোরোপ্লাস্ট: শুধু উদ্ভিদকোষে, এখানে সালোকসংশ্লেষণ হয় কোষগহ্বর: উদ্ভিদকোষে বড়, পানি জমা রাখে
দুই কোষেই নিউক্লিয়াস আর মাইটোকন্ড্রিয়া আছে; কোষপ্রাচীর, ক্লোরোপ্লাস্ট আর বড় কোষগহ্বর শুধু উদ্ভিদকোষে।
  • প্রাককেন্দ্রিক কোষ (ব্যাকটেরিয়া): নিউক্লিয়াসের চারপাশে পর্দা নেই।
  • প্রকৃতকেন্দ্রিক কোষ (উদ্ভিদ, প্রাণী): নিউক্লিয়াস পর্দায় ঘেরা, আছে নানা অঙ্গাণু। রাইবোসোমে আমিষ তৈরি হয়।

কোষ থেকে টিস্যু

একই রকম কোষ একসঙ্গে একই কাজ করলে তাকে বলে টিস্যু। প্রাণীর চার রকম টিস্যু: আবরণী (ত্বক), যোজক (রক্ত, হাড়), পেশি আর স্নায়ু টিস্যু। উদ্ভিদে ভাজক টিস্যু বিভাজিত হয়ে বৃদ্ধি ঘটায় (মূল ও কাণ্ডের আগায়), আর স্থায়ী টিস্যু নির্দিষ্ট কাজ করে, যেমন জাইলেম পানি বহন করে।

এক কথায়

কোষ জীবনের গঠন ও কাজের একক; উদ্ভিদকোষে বাড়তি থাকে কোষপ্রাচীর, ক্লোরোপ্লাস্ট আর বড় কোষগহ্বর, আর একই রকম কোষ মিলে তৈরি হয় টিস্যু।

জীববিজ্ঞান · নবম–দশম শ্রেণি · টপিক ৩

কোষ বিভাজন: এক থেকে দুই

বইয়ে: নবম–দশম শ্রেণির জীববিজ্ঞান, অধ্যায় ৩

তুমি বড় হও, ক্ষত সেরে যায়: সবই কোষ বিভাজনের ফল। বিভাজনের আগে কোষ তার ক্রোমোসোমের (DNA-র) হুবহু অনুলিপি তৈরি করে, যাতে দুই নতুন কোষ পূর্ণ তথ্য পায়।

মাইটোসিসের চার ধাপ: প্রোফেজে ক্রোমোসোম দৃশ্যমান, মেটাফেজে মাঝ বরাবর সারি, অ্যানাফেজে ক্রোমাটিড দুই দিকে সরে যায়, টেলোফেজে সমান ক্রোমোসোম নিয়ে দুটি নতুন কোষ। ১. প্রোফেজ: ক্রোমোসোম ঘন হয়ে দেখা যায় ২. মেটাফেজ: ক্রোমোসোম মাঝ বরাবর সারি বাঁধে ৩. অ্যানাফেজ: ক্রোমাটিড দুই মেরুর দিকে সরে ৪. টেলোফেজ: দুটি নতুন কোষ, সমান ক্রোমোসোম
মাইটোসিসের চার ধাপ। শেষে দুটি কোষ পায় হুবহু একই সংখ্যক ক্রোমোসোম।

মাইটোসিস আর মিয়োসিস

  • মাইটোসিস: দেহকোষে ঘটে; একটি কোষ থেকে সমান ক্রোমোসোমের দুটি কোষ। বৃদ্ধি আর ক্ষয়পূরণে কাজে লাগে।
  • মিয়োসিস: জনন মাতৃকোষে ঘটে; একটি কোষ থেকে চারটি কোষ, প্রতিটিতে ক্রোমোসোম অর্ধেক। মানুষের দেহকোষে ক্রোমোসোম ৪৬টি, কিন্তু শুক্রাণু ও ডিম্বাণুতে ২৩টি; নিষেকের পর আবার ৪৬টি হয়।

কোষ বিভাজন নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে অনিয়ন্ত্রিতভাবে চলতে থাকলে টিউমার, এমনকি ক্যান্সার হতে পারে।

এক কথায়

মাইটোসিসে একটি কোষ থেকে সমান ক্রোমোসোমের দুটি কোষ (বৃদ্ধি ও ক্ষয়পূরণ), আর মিয়োসিসে অর্ধেক ক্রোমোসোমের জননকোষ তৈরি হয়।

জীববিজ্ঞান · সপ্তম শ্রেণি · টপিক ৪

সালোকসংশ্লেষণ: পাতা যেন রান্নাঘর

বইয়ে: ষষ্ঠ শ্রেণির বিজ্ঞান, অধ্যায় ৫ · নবম–দশম শ্রেণির জীববিজ্ঞান, অধ্যায় ৪

প্রাণীকে খাবার খুঁজে নিতে হয়। উদ্ভিদ নিজের খাবার নিজেই তৈরি করে, পাতায়। এই রান্নায় লাগে তিনটি জিনিস: মূল থেকে আসা পানি, বাতাস থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড, আর শক্তির জন্য সূর্যের আলো। সবুজ রঞ্জক ক্লোরোফিল আলো ধরে রাখে।

পাতায় সূর্যের আলো পড়ছে। মূল থেকে কাণ্ড বেয়ে পানি ওঠে, বাতাস থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড পাতায় ঢোকে, পাতার ভেতরে শর্করা তৈরি হয়, আর অক্সিজেন বাতাসে বেরিয়ে যায়। সূর্যালোক অক্সিজেন বের হয় কার্বন ডাই-অক্সাইড ঢোকে পানি ওঠে শর্করা
মূল থেকে পানি ওঠে, বাতাস থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড ঢোকে, আর পাতা সূর্যের আলো দিয়ে এদের শর্করা ও অক্সিজেনে পরিণত করে।

কার্বন ডাই-অক্সাইড + পানি → (সূর্যালোক, ক্লোরোফিল) → গ্লুকোজ + অক্সিজেন

সংকেতে: 6CO₂ + 6H₂O → C₆H₁₂O₆ + 6O₂। গ্লুকোজ (এক ধরনের শর্করা) উদ্ভিদের খাদ্য আর দেহ গঠনের উপাদান। অক্সিজেন বাতাসে ছেড়ে দেওয়া হয়, আর সেই অক্সিজেনই তুমি নিঃশ্বাসে নাও।

উপকরণ ভেতরে যায় কীভাবে

পানি মূল থেকে কাণ্ডের সরু নালির মধ্য দিয়ে ওপরে ওঠে। কার্বন ডাই-অক্সাইড ঢোকে পত্ররন্ধ্র নামের ক্ষুদ্র ছিদ্র দিয়ে, যা বেশিরভাগ পাতার নিচের পিঠে বেশি থাকে। এই ছিদ্র দিয়েই অক্সিজেন আর জলীয় বাষ্প বেরিয়ে যায়।

নিজে করে দেখো

একটা জলজ উদ্ভিদ (যেমন পাতাঝাঁঝি) বা পাতাসহ ছোট ডাল এক গ্লাস পানিতে রেখে কড়া রোদে রাখো। কিছুক্ষণ পর পাতার গায়ে ছোট ছোট বুদ্‌বুদ জমবে। এই বুদ্‌বুদের বেশিরভাগই অক্সিজেন। গ্লাসটা ছায়ায় সরালে বুদ্‌বুদ কমে যাবে।

এক কথায়

পাতা সূর্যের আলো কাজে লাগিয়ে কার্বন ডাই-অক্সাইড আর পানি থেকে শর্করা তৈরি করে, আর অক্সিজেন ছেড়ে দেয়।

জীববিজ্ঞান · নবম–দশম শ্রেণি · টপিক ৫

খাদ্য, পুষ্টি এবং পরিপাক: খাবারের যাত্রা

বইয়ে: ষষ্ঠ শ্রেণির বিজ্ঞান, অধ্যায় ১৩ · নবম–দশম শ্রেণির জীববিজ্ঞান, অধ্যায় ৫

খাবারের বড় অণু রক্তে ঢুকতে পারে না। পরিপাক হলো এনজাইমের সাহায্যে বড় অণুকে ছোট, দ্রবণীয় অণুতে ভাঙা: শ্বেতসার থেকে গ্লুকোজ, আমিষ থেকে অ্যামাইনো এসিড, স্নেহ থেকে ফ্যাটি এসিড আর গ্লিসারল।

সরলীকৃত পরিপাকতন্ত্র: মুখ, অন্ননালি, পাকস্থলী, প্যাঁচানো ক্ষুদ্রান্ত্র আর বৃহদন্ত্র। একটি খাদ্যকণা পুরো পথ ধরে এগিয়ে যায়। মুখ: লালার অ্যামাইলেজ অন্ননালি পাকস্থলী:পেপসিন, HCl ক্ষুদ্রান্ত্র: পিত্তরস,অগ্ন্যাশয় রস, শোষণ বৃহদন্ত্র: পানি শোষণ
মুখে শ্বেতসার, পাকস্থলীতে আমিষ, ক্ষুদ্রান্ত্রে স্নেহসহ বাকি সব পরিপাক হয়; ক্ষুদ্রান্ত্রের ভিলাই দিয়ে পুষ্টি রক্তে যায়, আর বৃহদন্ত্র পানি শুষে নেয়। (চিত্রটি সরলীকৃত।)
  • মুখ: লালার অ্যামাইলেজ (টায়ালিন) শ্বেতসার ভাঙা শুরু করে। ভাত অনেকক্ষণ চিবালে মিষ্টি লাগে এ কারণেই।
  • পাকস্থলী: হাইড্রোক্লোরিক এসিড জীবাণু মারে, পেপসিন আমিষ ভাঙে।
  • ক্ষুদ্রান্ত্র: যকৃতের পিত্তরস চর্বিকে ছোট ছোট ফোঁটায় ভাঙে, অগ্ন্যাশয়ের এনজাইম সব রকম খাদ্য পরিপাক শেষ করে। ভেতরের আঙুলের মতো ভিলাই বিশাল উপরিতল দিয়ে পুষ্টি শুষে নেয়।
  • বৃহদন্ত্র: পানি শোষিত হয়, বাকিটা মল হিসেবে বেরিয়ে যায়।

সুষম খাদ্য

খাদ্যের ছয়টি উপাদান: শর্করা, আমিষ, স্নেহ, ভিটামিন, খনিজ লবণ আর পানি। ঘাটতি হলে রোগ হয়: ভিটামিন A-র অভাবে রাতকানা, ভিটামিন D-র অভাবে রিকেটস, ভিটামিন C-র অভাবে স্কার্ভি, আয়োডিনের অভাবে গলগণ্ড। তাই আয়োডিনযুক্ত লবণ খাওয়া জরুরি।

এক কথায়

পরিপাক মানে এনজাইম দিয়ে বড় খাদ্য-অণুকে ছোট অণুতে ভাঙা; মুখ থেকে শুরু, ক্ষুদ্রান্ত্রে শেষ ও শোষণ, আর সুষম খাদ্যে ছয় উপাদানই লাগে।

জীববিজ্ঞান · নবম–দশম শ্রেণি · টপিক ৬

হৃৎপিণ্ড ও রক্ত: দুটি পাম্প, একটি পথ

বইয়ে: নবম–দশম শ্রেণির জীববিজ্ঞান, অধ্যায় ৬ · একাদশ–দ্বাদশ শ্রেণির জীববিজ্ঞান ২য় পত্র, অধ্যায় ৪

তোমার হৃৎপিণ্ড মোটামুটি তোমার মুঠির সমান একটা পেশি। আসলে এটা পাশাপাশি দুটি পাম্প। ডান অংশ রক্তকে ফুসফুসে পাঠায় অক্সিজেন নিতে। বাম অংশ সেই অক্সিজেনসমৃদ্ধ রক্ত সারা দেহে পাঠায়।

রক্তের পথ: দেহ থেকে আসা অক্সিজেনহীন রক্ত হৃৎপিণ্ডের ডান অংশে ঢুকে ফুসফুসে পাম্প হয়। অক্সিজেনসমৃদ্ধ রক্ত হৃৎপিণ্ডের বাম অংশে ফিরে এসে সারা দেহে পাম্প হয়। ফুসফুস: রক্ত অক্সিজেন নেয় দেহ: রক্ত অক্সিজেন দিয়ে দেয় ডান বাম অক্সিজেন- হীন অক্সিজেন- সমৃদ্ধ
গাঢ় বিন্দু: অক্সিজেন কম এমন রক্ত, যাচ্ছে ফুসফুসে। সোনালি বিন্দু: অক্সিজেনে ভরা রক্ত, যাচ্ছে দেহে। (চিত্রে মানুষের ডান দিক থাকে তোমার বাঁ দিকে।)

চারটি কক্ষ আর একমুখী দরজা

প্রতিটি অংশে দুটি প্রকোষ্ঠ: ওপরে অলিন্দ, যা রক্ত জমা করে, আর নিচে নিলয়, যা রক্ত পাম্প করে বের করে দেয়। কপাটিকাগুলো একমুখী দরজার মতো, তাই রক্ত উল্টো দিকে যেতে পারে না। হৃৎস্পন্দনের "লাব-ডাব" শব্দ হলো এই কপাটিকা বন্ধ হওয়ার শব্দ। বাম নিলয়ের প্রাচীর সবচেয়ে পুরু, কারণ তাকে সারা দেহে রক্ত ঠেলে পাঠাতে হয়।

যাওয়া আর ফেরা

ধমনি রক্ত হৃৎপিণ্ড থেকে দূরে নিয়ে যায়; শিরা রক্ত ফিরিয়ে আনে। মাঝখানে সূক্ষ্ম কৈশিকনালি দিয়ে অক্সিজেন আর খাদ্য দেহকোষে পৌঁছে যায়।

নিজে করে দেখো

কবজির ভেতরের দিকে, বুড়ো আঙুলের নিচে দুই আঙুল আলতো করে চেপে ধরে ১৫ সেকেন্ড স্পন্দন গোনো। ৪ দিয়ে গুণ করলে পাবে মিনিটে হৃৎস্পন্দনের হার। বিশ্রামে একজন প্রাপ্তবয়স্কের সাধারণত মিনিটে ৬০ থেকে ১০০ বার। এক মিনিট এক জায়গায় লাফিয়ে আবার গোনো: পেশির বেশি অক্সিজেন লাগে, তাই হৃৎপিণ্ড দ্রুত চলে।

এক কথায়

হৃৎপিণ্ডের ডান অংশ রক্তকে অক্সিজেনের জন্য ফুসফুসে পাঠায়; বাম অংশ সেই রক্ত সারা দেহে পাঠায়।

জীববিজ্ঞান · অষ্টম শ্রেণি · টপিক ৭

শ্বাসক্রিয়া: মধ্যচ্ছদার পাম্প

বইয়ে: নবম–দশম শ্রেণির জীববিজ্ঞান, অধ্যায় ৭ · একাদশ–দ্বাদশ শ্রেণির জীববিজ্ঞান ২য় পত্র, অধ্যায় ৫

ফুসফুসের নিজের কোনো পেশি নেই। তার নিচে গম্বুজের মতো একটা পেশির পর্দা, মধ্যচ্ছদা (ডায়াফ্রাম), বেশিরভাগ কাজ করে; সাহায্য করে পাঁজরের মাঝের পেশি।

বুকের ভেতর মধ্যচ্ছদার ওপরে দুটি ফুসফুস। শ্বাস নেওয়ার সময় মধ্যচ্ছদা চ্যাপ্টা হয়ে নিচে নামে, ফুসফুস বড় হয় আর শ্বাসনালি দিয়ে বাতাস ঢোকে। শ্বাস ছাড়ার সময় মধ্যচ্ছদা গম্বুজের মতো ওপরে ওঠে, ফুসফুস ছোট হয় আর বাতাস বেরিয়ে যায়। শ্বাস নাও শ্বাস ছাড়ো মধ্যচ্ছদা
শ্বাস নেওয়ার সময় মধ্যচ্ছদা নিচে নামে, ফুসফুস ভরে যায়। শ্বাস ছাড়ার সময় এটি শিথিল হয়ে ওপরে ওঠে আর বাতাস ঠেলে বের করে দেয়।

ভেতরে আর বাইরে

  • প্রশ্বাস (শ্বাস নেওয়া): মধ্যচ্ছদা সংকুচিত হয়ে চ্যাপ্টা হয় ও নিচে নামে, পাঁজরের পেশি পাঁজরকে ওপরে ও বাইরে তোলে। বুকের ভেতরের জায়গা বাড়ে, ভেতরের বায়ুচাপ কমে, আর বাতাস হুড়মুড় করে ঢোকে।
  • নিঃশ্বাস (শ্বাস ছাড়া): পেশিগুলো শিথিল হয়, মধ্যচ্ছদা আবার গম্বুজের মতো ওপরে ওঠে, বুকের জায়গা কমে, আর বাতাস বেরিয়ে যায়।

অক্সিজেন যায় কোথায়

ফুসফুসের ভেতরে বাতাস পৌঁছায় লক্ষ লক্ষ ক্ষুদ্র বায়ুথলিতে, যাদের বলে অ্যালভিওলাই; এগুলো কৈশিকনালি দিয়ে মোড়ানো। অক্সিজেন রক্তে ঢোকে আর কার্বন ডাই-অক্সাইড বেরিয়ে আসে নিঃশ্বাসের সঙ্গে চলে যেতে। তারপর হৃৎপিণ্ড সেই অক্সিজেনসমৃদ্ধ রক্ত সারা দেহে পাম্প করে।

শ্বাসক্রিয়া আর শ্বসন এক জিনিস নয়। শ্বাসক্রিয়া বাতাস ভেতরে-বাইরে আনে-নেয়। শ্বসন ঘটে প্রতিটি কোষের ভেতরে, যেখানে অক্সিজেন ব্যবহার করে গ্লুকোজ থেকে শক্তি বের করা হয়।

নিজে করে দেখো

পাঁজরের ঠিক নিচে পেটের ওপর একটা হাত রেখে ধীরে শ্বাস নাও। মধ্যচ্ছদা নিচে নামার সঙ্গে সঙ্গে হাতটা বাইরের দিকে সরে যাবে। বিশ্রামে একজন প্রাপ্তবয়স্ক মিনিটে প্রায় ১২ থেকে ২০ বার শ্বাস নেন; এক মিনিট ধরে নিজের শ্বাস গুনে দেখো।

এক কথায়

মধ্যচ্ছদা নিচে নেমে বুকের জায়গা বাড়ায়, তাই বাতাস ঢোকে; শিথিল হয়ে ওপরে উঠে বাতাস বের করে দেয়।

জীববিজ্ঞান · নবম–দশম শ্রেণি · টপিক ৮

রেচন প্রক্রিয়া: বৃক্ক যেভাবে রক্ত ছাঁকে

বইয়ে: নবম–দশম শ্রেণির জীববিজ্ঞান, অধ্যায় ৮

দেহের কোষে কাজ চলার সময় তৈরি হয় বর্জ্য, যেমন আমিষ ভাঙার ফলে ইউরিয়া। এই বর্জ্য দেহ থেকে বের করে দেওয়াই রেচন। প্রধান রেচন অঙ্গ বৃক্ক (কিডনি): কোমরের দুই পাশে শিমের বিচির আকারের দুটি অঙ্গ।

একটি নেফ্রনের সরলীকৃত চিত্র। রক্ত গ্লোমেরুলাসের ছাঁকনির ওপর দিয়ে যায়। বড় কণা, যেমন রক্তকণিকা আর আমিষ, রক্তেই থেকে যায়; পানি আর ইউরিয়া নালিকা দিয়ে মূত্রে যায়; গ্লুকোজের মতো দরকারি পদার্থ আবার রক্তে ফিরে যায়। রক্ত → গ্লোমেরুলাস (ছাঁকনি) মূত্র ↓ রক্তকণিকা, আমিষ: রক্তেই থাকে পানি, ইউরিয়া: মূত্রে যায় গ্লুকোজ: ফিরে রক্তে যায়
ছাঁকন আর পুনঃশোষণ: বর্জ্য মূত্রে যায়, দরকারি পদার্থ ফিরে আসে রক্তে।

প্রতিটি বৃক্কে প্রায় ১০ লাখ ক্ষুদ্র ছাঁকনি-একক থাকে, নাম নেফ্রন। নেফ্রনের গ্লোমেরুলাসে রক্ত চাপে ছাঁকা হয়; তারপর নালিকা দিয়ে যাওয়ার সময় গ্লুকোজ, প্রয়োজনীয় লবণ আর বেশিরভাগ পানি আবার রক্তে ফিরে যায়। বাকি পানি, ইউরিয়া আর বাড়তি লবণ নিয়ে তৈরি হয় মূত্র, যা মূত্রথলিতে জমা হয়।

বৃক্কের যত্ন

যথেষ্ট পানি পান করলে বৃক্কে পাথর জমার ঝুঁকি কমে। দীর্ঘদিনের উচ্চ রক্তচাপ আর ডায়াবেটিস বৃক্কের ক্ষতি করতে পারে। দুটি বৃক্কই কাজ বন্ধ করলে যন্ত্রের সাহায্যে রক্ত ছাঁকতে হয় (ডায়ালাইসিস) বা বৃক্ক প্রতিস্থাপন করতে হয়।

এক কথায়

বৃক্কের নেফ্রন রক্ত ছেঁকে ইউরিয়াসহ বর্জ্য মূত্রে পাঠায় আর দরকারি পদার্থ আবার রক্তে ফিরিয়ে নেয়।

জীববিজ্ঞান · নবম–দশম শ্রেণি · টপিক ৯

দৃঢ়তা প্রদান ও চলন: হাড় আর পেশির জুটি

বইয়ে: নবম–দশম শ্রেণির জীববিজ্ঞান, অধ্যায় ৯

প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের কঙ্কালে ২০৬টি হাড়। কঙ্কাল দেহকে কাঠামো দেয়, মস্তিষ্ক-হৃৎপিণ্ডের মতো নরম অঙ্গকে রক্ষা করে, আর হাড়ের মজ্জায় রক্তকণিকা তৈরি হয়। হাড় নিজে নড়ে না; তাকে টানে পেশি।

কনুইয়ে হাত ভাঁজ করা: সামনের বাইসেপস পেশি ছোট ও মোটা হয়ে বাহুর নিচের অংশ ওপরে টানে, পেছনের ট্রাইসেপস শিথিল হয়ে লম্বা হয়। তারপর উল্টোটা ঘটে হাত নামে। কাঁধ বাইসেপস ট্রাইসেপস কনুই (কবজা সন্ধি) বাইসেপস সংকুচিত হলে হাত ওঠে, ট্রাইসেপস সংকুচিত হলে নামে
পেশি শুধু টানতে পারে, ঠেলতে পারে না; তাই পেশি কাজ করে জোড়ায় জোড়ায়, একটি সংকুচিত হলে অন্যটি শিথিল হয়।

সন্ধি

দুটি হাড় যেখানে মেলে তা সন্ধি। কনুই আর হাঁটু কবজা সন্ধি: দরজার কবজার মতো এক দিকে ভাঁজ হয়। কাঁধ আর কোমর বল-সকেট সন্ধি: প্রায় সব দিকে ঘোরে। সন্ধির তরল আর তরুণাস্থি ঘর্ষণ কমায়।

হাড় মজবুত রাখতে

ক্যালসিয়াম (দুধ, ছোট মাছ, শাক) আর ভিটামিন D (রোদ) হাড় শক্ত রাখে, নিয়মিত ব্যায়ামও জরুরি। বয়সের সঙ্গে হাড় ক্ষয়ে ভঙ্গুর হয়ে যাওয়াকে বলে অস্টিওপোরোসিস। উদ্ভিদে কোষপ্রাচীর আর পানির চাপ (রসস্ফীতি) এবং কাঠের লিগনিন দৃঢ়তা দেয়।

এক কথায়

কঙ্কাল কাঠামো দেয় আর অঙ্গ রক্ষা করে; পেশি শুধু টানতে পারে, তাই বাইসেপস-ট্রাইসেপসের মতো জোড়ায় কাজ করে, আর সন্ধিতে হাড় ঘোরে।

জীববিজ্ঞান · নবম–দশম শ্রেণি · টপিক ১০

সমন্বয়: স্নায়ু আর হরমোন

বইয়ে: অষ্টম শ্রেণির বিজ্ঞান, অধ্যায় ৫ · নবম–দশম শ্রেণির জীববিজ্ঞান, অধ্যায় ১০

দেহের নানা অঙ্গ যাতে একসঙ্গে মিলে কাজ করে, তা দেখে দুটি ব্যবস্থা: দ্রুত বার্তার জন্য স্নায়ুতন্ত্র (মস্তিষ্ক, সুষুম্নাকাণ্ড আর স্নায়ু), আর ধীর কিন্তু দীর্ঘস্থায়ী বার্তার জন্য হরমোন। স্নায়ুতন্ত্রের একক নিউরন, যা বিদ্যুৎ-সংকেতের মতো বার্তা বহন করে।

প্রতিবর্ত চাপ: গরম শিখায় আঙুল লাগতেই সংবেদী স্নায়ু দিয়ে বার্তা সুষুম্নাকাণ্ডে যায়, সেখান থেকে চেষ্টীয় স্নায়ু দিয়ে পেশিতে ফেরে, আর হাত সরে যায়। সংবেদী স্নায়ু → ← চেষ্টীয় স্নায়ু সুষুম্নাকাণ্ড আঙুল গরমে লাগল → মস্তিষ্ককে না জিজ্ঞেস করেই হাত সরে গেল
প্রতিবর্ত ক্রিয়া: বার্তা মস্তিষ্ক পর্যন্ত না গিয়ে সুষুম্নাকাণ্ড থেকেই ফিরে আসে, তাই ভাবার আগেই হাত সরে যায়।

প্রতিবর্ত ক্রিয়া স্বয়ংক্রিয় আর খুব দ্রুত: চোখে আলো পড়লে মণি ছোট হওয়া, হাঁচি, গরমে হাত সরানো। এতে বিপদ থেকে দেহ বাঁচে।

হরমোন

  • ইনসুলিন (অগ্ন্যাশয়): রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা কমায়। ঠিকমতো কাজ না করলে ডায়াবেটিস হয়।
  • থাইরক্সিন (থাইরয়েড গ্রন্থি): দেহের বিপাকের হার ঠিক রাখে; এর জন্য আয়োডিন লাগে।
  • অ্যাড্রেনালিন (অ্যাড্রেনাল গ্রন্থি): ভয় বা বিপদে হৃৎস্পন্দন বাড়িয়ে দেহকে প্রস্তুত করে।

উদ্ভিদেরও সমন্বয় আছে: অক্সিন হরমোনের কারণে জানালার পাশের চারাগাছ আলোর দিকে বেঁকে যায়।

এক কথায়

স্নায়ুতন্ত্র দ্রুত বার্তা পাঠায় (প্রতিবর্ত ক্রিয়ায় সুষুম্নাকাণ্ড থেকেই সাড়া), আর হরমোন রক্তের মাধ্যমে ধীরে কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে কাজ নিয়ন্ত্রণ করে।

জীববিজ্ঞান · নবম–দশম শ্রেণি · টপিক ১১

জীবের প্রজনন: ফুল থেকে বীজ

বইয়ে: অষ্টম শ্রেণির বিজ্ঞান, অধ্যায় ৪ · নবম–দশম শ্রেণির জীববিজ্ঞান, অধ্যায় ১১

প্রজননের মাধ্যমে জীব নিজের মতো নতুন জীব তৈরি করে। অযৌন জননে একটি জীবই যথেষ্ট (আলুর চোখ থেকে নতুন গাছ, অ্যামিবার দুই ভাগ হওয়া)। যৌন জননে পুংজনন কোষ আর স্ত্রীজনন কোষ মিলে তৈরি হয় জাইগোট; এতে সন্তানে দুই পিতামাতার বৈশিষ্ট্য মেশে।

একটি মৌমাছি বাঁয়ের ফুলের পরাগধানী থেকে পরাগরেণু নিয়ে ডানের ফুলের গর্ভমুণ্ডে রাখে। তারপর পরাগরেণু থেকে একটি পরাগনালি গর্ভদণ্ড বেয়ে নিচে ডিম্বকের দিকে বাড়ে। পরাগধানী গর্ভমুণ্ড ডিম্বক পরাগনালি
পরাগায়ন: মৌমাছি পরাগরেণু এক ফুল থেকে আরেক ফুলের গর্ভমুণ্ডে পৌঁছে দেয়; তারপর পরাগনালি ডিম্বকে পৌঁছে নিষেক ঘটায়।

ফুল: উদ্ভিদের প্রজনন অঙ্গ

ফুলের চার স্তবক: বৃতি, দল (পাপড়ি), পুংস্তবক (পুংকেশর: পরাগধানীতে পরাগরেণু) আর স্ত্রীস্তবক (গর্ভকেশর: গর্ভমুণ্ড, গর্ভদণ্ড, গর্ভাশয়)। পরাগরেণু গর্ভমুণ্ডে পৌঁছানোকে বলে পরাগায়ন; একই ফুলে হলে স্বপরাগায়ন, ভিন্ন ফুলে হলে পরপরাগায়ন। বাতাস, পানি, পোকামাকড় আর পাখি পরাগ বহন করে।

নিষেকের পর ডিম্বক থেকে হয় বীজ, আর গর্ভাশয় বড় হয়ে হয় ফল। আমের আঁটি আসলে বীজের আবরণসহ বীজ, আর খাওয়ার অংশটি গর্ভাশয়ের প্রাচীর থেকে তৈরি।

মানুষও যৌন জননে বংশবৃদ্ধি করে। কৈশোরে দেহে যে পরিবর্তন আসে, তা হরমোনের স্বাভাবিক প্রভাব; এ নিয়ে প্রশ্ন থাকলে মা-বাবা, শিক্ষক বা চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলো।

এক কথায়

যৌন জননে দুই জননকোষ মিলে জাইগোট হয়; ফুলে পরাগায়ন আর নিষেকের পর ডিম্বক বীজে আর গর্ভাশয় ফলে পরিণত হয়।

জীববিজ্ঞান · নবম–দশম শ্রেণি · টপিক ১২

জীবের বংশগতি ও বিবর্তন: মেন্ডেলের মটরশুঁটি

বইয়ে: অষ্টম শ্রেণির বিজ্ঞান, অধ্যায় ২ · নবম–দশম শ্রেণির জীববিজ্ঞান, অধ্যায় ১২

মা-বাবার বৈশিষ্ট্য সন্তানে যাওয়াকে বলে বংশগতি। বৈশিষ্ট্যের তথ্য থাকে জিনে, জিন থাকে ক্রোমোসোমে, আর ক্রোমোসোম তৈরি DNA দিয়ে। ১৯৫৩ সালে ওয়াটসন ও ক্রিক DNA-র দ্বিসূত্রক পেঁচানো সিঁড়ির মতো গঠন দেখান।

গ্রেগর মেন্ডেল মটরশুঁটি নিয়ে পরীক্ষা করে দেখান, প্রতিটি বৈশিষ্ট্যের জন্য সন্তান দুটি করে "একক" পায়, একটি মায়ের কাছ থেকে, একটি বাবার কাছ থেকে। যেটি প্রকাশ পায় সেটি প্রকট, যেটি চাপা থাকে সেটি প্রচ্ছন্ন।

পানেট বর্গ: দুটি Tt লম্বা গাছের সংকরে সন্তানের চারটি সম্ভাবনা TT, Tt, Tt আর tt। প্রথম তিনটি লম্বা, শেষেরটি খাটো, অনুপাত ৩:১। মা-বাবা: Tt × Tt (দুজনই লম্বা) Tt Tt TT Tt Tt tt লম্বা : খাটো = ৩ : ১ T = লম্বা (প্রকট)t = খাটো (প্রচ্ছন্ন)
Tt × Tt সংকরে চার ঘরের তিনটিতে অন্তত একটি T, তাই লম্বা; শুধু tt খাটো। লম্বা : খাটো = ৩ : ১।

ছেলে না মেয়ে, ঠিক হয় কীভাবে

মানুষের লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোসোম: মেয়েদের XX, ছেলেদের XY। মায়ের ডিম্বাণুতে সবসময় X থাকে; বাবার শুক্রাণুতে থাকে X অথবা Y। তাই সন্তান ছেলে না মেয়ে হবে, তা নির্ভর করে বাবার শুক্রাণুর ওপর; এর জন্য মাকে দায়ী করার কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।

বিবর্তন

চার্লস ডারউইন ১৮৫৯ সালে প্রাকৃতিক নির্বাচনের ধারণা দেন: একই প্রজাতির সদস্যদের মধ্যে ভিন্নতা থাকে, আর পরিবেশে টিকে থাকার জন্য যাদের বৈশিষ্ট্য বেশি উপযোগী, তারা বেশি সন্তান রেখে যায়। বহু প্রজন্মে এভাবে জীবের বৈশিষ্ট্য ধীরে ধীরে বদলায়।

এক কথায়

জিন DNA দিয়ে তৈরি আর মা-বাবা দুজনের কাছ থেকে একটি করে আসে; প্রকট বৈশিষ্ট্য প্রচ্ছন্নকে ঢেকে রাখে, তাই Tt × Tt সংকরে ৩ : ১ অনুপাত।

জীববিজ্ঞান · নবম–দশম শ্রেণি · টপিক ১৩

জীবের পরিবেশ: খাদ্যশৃঙ্খল আর শক্তির পিরামিড

বইয়ে: ষষ্ঠ শ্রেণির বিজ্ঞান, অধ্যায় ১৪ · নবম–দশম শ্রেণির জীববিজ্ঞান, অধ্যায় ১৩

কোনো এলাকার জীব আর তাদের চারপাশের মাটি, পানি, আলো, বাতাস মিলে তৈরি হয় বাস্তুতন্ত্র। এর সজীব উপাদান তিন রকম: উৎপাদক (সবুজ উদ্ভিদ, নিজের খাদ্য নিজে তৈরি করে), খাদক (প্রাণী) আর বিয়োজক (ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক, যারা মৃতদেহ পচিয়ে পুষ্টি মাটিতে ফিরিয়ে দেয়)।

কে কাকে খায়, সেই ধারাকে বলে খাদ্যশৃঙ্খল: ঘাস → ফড়িং → ব্যাঙ → সাপ → ঈগল। অনেকগুলো খাদ্যশৃঙ্খল একে অপরের সঙ্গে জড়িয়ে তৈরি করে খাদ্যজাল।

শক্তির পিরামিড: নিচে ঘাস ১০,০০০ একক শক্তি, তার ওপরে ফড়িং ১,০০০, তার ওপরে ব্যাঙ ১০০, আর চূড়ায় সাপ ১০। প্রতিটি ধাপে প্রায় দশ ভাগের এক ভাগ শক্তি পরের ধাপে যায়। ঘাস (উৎপাদক): ১০,০০০ একক ফড়িং: ১,০০০ একক ব্যাঙ: ১০০ ← সাপ: ১০ প্রতি ধাপে মাত্র প্রায় ১০% শক্তি পরের ধাপে যায় ↑
প্রতিটি ধাপে বেশিরভাগ শক্তি শ্বসন আর তাপে খরচ হয়ে যায়, তাই পরের ধাপে যায় মোটামুটি দশ ভাগের এক ভাগ। এ কারণেই খাদ্যশৃঙ্খল সাধারণত চার-পাঁচ ধাপের বেশি লম্বা হয় না।

সুন্দরবন: আমাদের ম্যানগ্রোভ বাস্তুতন্ত্র

লবণাক্ত জোয়ার-ভাটার পানিতে টিকে থাকে সুন্দরী, গেওয়া, গোলপাতার মতো গাছ; এদের শ্বাসমূল মাটির ওপরে উঠে বাতাস নেয়। এখানে আছে রয়েল বেঙ্গল টাইগার, চিত্রা হরিণ, কুমির আর অসংখ্য মাছ-কাঁকড়া। ঘূর্ণিঝড়ের সময় সুন্দরবন উপকূলকে ঢালের মতো রক্ষা করে।

দূষণ, বন উজাড় আর অতিরিক্ত শিকারে কোনো একটি প্রজাতি কমে গেলে পুরো খাদ্যজালে তার প্রভাব পড়ে। তাই জীববৈচিত্র্য রক্ষা করা জরুরি।

এক কথায়

বাস্তুতন্ত্রে উৎপাদক থেকে খাদকে শক্তি যায় খাদ্যশৃঙ্খল ধরে, প্রতি ধাপে মাত্র প্রায় ১০%, আর বিয়োজক পুষ্টি ফিরিয়ে দেয় মাটিতে।

জীববিজ্ঞান · নবম–দশম শ্রেণি · টপিক ১৪

জীবপ্রযুক্তি: জিন কেটে জোড়া লাগানো

বইয়ে: নবম–দশম শ্রেণির জীববিজ্ঞান, অধ্যায় ১৪

জীবপ্রযুক্তি মানে জীব বা তার অংশ কাজে লাগিয়ে মানুষের প্রয়োজনীয় জিনিস তৈরি করা। দই বানানো (ব্যাকটেরিয়া) আর পাউরুটি ফোলানো (ইস্ট) এর পুরোনো উদাহরণ। আধুনিক জীবপ্রযুক্তিতে সরাসরি জিন নিয়ে কাজ হয়: একে বলে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং।

মানুষের DNA থেকে ইনসুলিন তৈরির জিন কেটে নিয়ে ব্যাকটেরিয়ার প্লাজমিড নামের গোল DNA-তে জুড়ে দেওয়া হয়। সেই ব্যাকটেরিয়া বিভাজিত হয়ে বহু গুণ বাড়ে, আর প্রতিটি ইনসুলিন তৈরি করে। মানুষের DNA ইনসুলিন জিন ব্যাকটেরিয়া ও তার প্লাজমিড বহু গুণ বেড়ে ইনসুলিন তৈরি
ইনসুলিন জিন কেটে ব্যাকটেরিয়ার প্লাজমিডে বসানো হয়; ব্যাকটেরিয়া দ্রুত বংশবৃদ্ধি করে প্রচুর মানব-ইনসুলিন তৈরি করে, যা ডায়াবেটিস রোগীদের কাজে লাগে।

আরও কিছু প্রয়োগ

  • টিস্যু কালচার: গাছের ছোট্ট এক টুকরা পুষ্টি মাধ্যমে রেখে অল্প সময়ে অনেক একই রকম রোগমুক্ত চারা তৈরি।
  • জিনগতভাবে পরিবর্তিত ফসল: বাংলাদেশে উদ্ভাবিত বিটি বেগুনে একটি ব্যাকটেরিয়ার জিন বসানো হয়েছে, যা ডগা ও ফল ছিদ্রকারী পোকা ঠেকায়।
  • DNA পরীক্ষা: প্রত্যেক মানুষের DNA-র নকশা আলাদা, তাই অপরাধী শনাক্ত বা মা-বাবা নির্ণয়ে DNA পরীক্ষা ব্যবহৃত হয়।

২০১০ সালে বাংলাদেশি বিজ্ঞানী মাকসুদুল আলমের নেতৃত্বে একদল গবেষক পাটের জিনোম উন্মোচন করেন, যা উন্নত জাতের পাট উদ্ভাবনের পথ খুলে দেয়।

এক কথায়

জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে দরকারি জিন কেটে অন্য জীবে বসানো হয়, যেমন ব্যাকটেরিয়া দিয়ে মানব-ইনসুলিন তৈরি বা বিটি বেগুনের মতো পোকা-প্রতিরোধী ফসল।