ইন্টারনেটে তথ্য যায় কীভাবে: প্যাকেট চলে নিজের পথে
বন্ধুকে একটা ছবি পাঠালে সেটা এক টুকরায় যায় না। ছবিটা অনেক ছোট ছোট প্যাকেটে ভাগ হয়। প্রতিটি প্যাকেটে থাকে ছবির একটা অংশ, কোথায় যাবে তার ঠিকানা (আইপি ঠিকানা), আর একটা নম্বর, যা বলে প্যাকেটটা কোথায় বসবে।
১, ২ আর ৩ নম্বর প্যাকেট আলাদা পথে গিয়ে এলোমেলো ক্রমে পৌঁছায়। নম্বর দেখে বন্ধুর ফোন বার্তাটা আবার জোড়া লাগায়।
রাউটার যেন ট্রাফিক পুলিশ
পথে রাউটার নামের কম্পিউটারগুলো প্রতিটি প্যাকেটের ঠিকানা পড়ে তাকে এক ধাপ কাছে পাঠায়, এমন পথ বেছে নেয় যেখানে জট নেই। কোনো পথ নষ্ট হলে প্যাকেট অন্য পথে চলে যায়। কোনো প্যাকেট হারিয়ে গেলে গ্রাহক ডিভাইস নম্বরের ফাঁক দেখে সেই টুকরা আবার চেয়ে নেয়।
সাগরের তলা দিয়ে
প্যাকেট প্রায়ই সমুদ্রের তলদেশের ক্যাবল দিয়ে মহাসাগর পার হয়। বাংলাদেশ বিশ্বের সঙ্গে যুক্ত কক্সবাজারে (SEA-ME-WE 4, ২০০৬) আর কুয়াকাটায় (SEA-ME-WE 5, ২০১৭) নামা সাবমেরিন ক্যাবল দিয়ে, পাশাপাশি স্থলপথের ক্যাবল দিয়েও।
এক কথায়
ইন্টারনেট তথ্যকে নম্বর দেওয়া প্যাকেটে ভাগ করে, যে পথ খালি সে পথে পাঠায়, আর অন্য প্রান্তে আবার জোড়া লাগায়।
আইসিটি · একাদশ–দ্বাদশ শ্রেণি · টপিক ২
বাইনারি সংখ্যা: সুইচ দিয়ে গোনা
কম্পিউটারের ভেতরে সবকিছু (সংখ্যা, অক্ষর, ছবি, গান) জমা থাকে ক্ষুদ্র সুইচে, যা হয় বন্ধ (0) নয়তো চালু (1)। মাত্র দুটি অঙ্ক দিয়ে গোনার পদ্ধতিকে বলে বাইনারি বা দুই-ভিত্তিক সংখ্যা পদ্ধতি।
সাধারণ (দশমিক) সংখ্যায় প্রতিটি স্থানের মান তার ডানের স্থানের ১০ গুণ: ১, ১০, ১০০। বাইনারিতে প্রতিটি স্থানের মান ডানেরটার ২ গুণ: 1, 2, 4, 8, 16, 32, 64, 128।
নিজে করো: বাল্বে চাপ দিয়ে জ্বালাও। প্রতিটি জ্বলন্ত বাল্ব তার মান যোগ করে।
বাইনারি 00000000 = দশমিক ০
চ্যালেঞ্জ: প্রথমে ৫ বানাও, তারপর ১৩, তারপর তোমার বয়স। ৮টি বাল্ব দিয়ে সবচেয়ে বড় কোন সংখ্যা বানানো যায়?
বাইনারি সংখ্যা পড়া
ধরো 1101। ডান দিক থেকে স্থানগুলোর মান 1, 2, 4 আর 8। যে স্থানে 1 আছে সেগুলো যোগ করো: ৮ + ৪ + ০ + ১ = ১৩। উল্টো দিকে যেতে বারবার সবচেয়ে বড় যে স্থানীয় মান বিয়োগ করা যায় তা বিয়োগ করো: ১৩ − ৮ = ৫, ৫ − ৪ = ১, ১ − ১ = ০, তাই ১৩ = 1101।
বিট আর বাইট
একটি বাইনারি অঙ্ককে বলে বিট। আটটি বিটে এক বাইট, যাতে ২৫৬টি ভিন্ন মান রাখা যায়, ০ থেকে ২৫৫। এ কারণেই কম্পিউটারে ২৫৫ সংখ্যাটা এত বেশি দেখা যায়, যেমন রঙের কোডে আর আইপি ঠিকানায়।
এক কথায়
বাইনারি শুধু 0 আর 1 দিয়ে গোনে, আর প্রতিটি স্থানের মান তার ডানের স্থানের দ্বিগুণ।
আইসিটি · একাদশ–দ্বাদশ শ্রেণি · টপিক ৩
লজিক গেট: AND, OR, NOT
কম্পিউটার সিদ্ধান্ত নেয় ক্ষুদ্র ইলেকট্রনিক সুইচ দিয়ে, যেগুলো মিলে তৈরি হয় লজিক গেট। প্রতিটি গেট 0 (বন্ধ) বা 1 (চালু) ইনপুট নিয়ে একটি আউটপুট দেয়। লক্ষ লক্ষ গেট একসঙ্গে কাজ করে সংখ্যা যোগ করে, পাসওয়ার্ড মেলায়, গেম চালায়।
নিজে করো: ইনপুট A আর B চালু-বন্ধ করো, আর প্রতিটি গেটের আউটপুট দেখো।
AND (A · B): দুটোই 1 হলে তবেই 10
OR (A + B): অন্তত একটি 1 হলেই 10
NOT A (A̅): A-কে উল্টে দেয়1
সত্যক সারণি
সত্যক সারণিতে (Truth table) ইনপুটের সব সম্ভাব্য সমন্বয় আর প্রতিটির আউটপুট লেখা থাকে।
A
B
A AND B
A OR B
0
0
0
0
0
1
0
1
1
0
0
1
1
1
1
1
বুলিয়ান অ্যালজেবরায় AND লেখা হয় গুণ চিহ্ন (ডট) দিয়ে আর OR যোগ চিহ্ন দিয়ে। তাই OR-এ 1 + 1 = 1: "চালু অথবা চালু" মানে এখনো শুধু "চালু"।
দৈনন্দিন জীবনে গেট
AND: মাইক্রোওয়েভ চলে শুধু তখনই, যখন দরজা বন্ধ এবং স্টার্ট চাপা। পরপর (সিরিজে) লাগানো দুটি সুইচ একইভাবে কাজ করে।
OR: গাড়ির সতর্কবাতি জ্বলে ওঠে যদি কোনো দরজা খোলা থাকে অথবা সিটবেল্ট খোলা থাকে। পাশাপাশি (সমান্তরালে) লাগানো দুটি সুইচ এভাবে কাজ করে।
NOT: ফ্রিজের দরজা বন্ধ না থাকলে ভেতরের বাতি জ্বলে।
এক কথায়
AND-এর জন্য সব ইনপুট চালু লাগে, OR-এর জন্য অন্তত একটি, আর NOT ইনপুটকে উল্টে দেয়।